যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির প্রাথমিক ট্রাস্ট ফান্ড ২০৩২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যে তহবিলের ঘাটতিতে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্টিরা। বর্তমান আইন অনুযায়ী, এই ঘাটতি তৈরি হলে এবং মার্কিন কংগ্রেস কোনো আইনি পরিবর্তন না আনলে চলমান রাজস্ব দিয়ে নির্ধারিত অবসর ও সারভাইভার সুবিধার মাত্র ৭৮ শতাংশ পরিশোধ করা সম্ভব হবে। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুবিধা প্রায় ২২ শতাংশ কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা একটি গড় বিবাহিত দম্পতির জন্য বছরে প্রায় ১০,৫৬০ ডলার সমপরিমাণ।

মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং জন্মহার কমে যাওয়াকে এই ঘাটতির মূল জনসংখ্যাতাত্ত্বিক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে তরুণ কর্মীদের কর দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুবিধা নিশ্চিত করার যে ভিত্তি ছিল, সেখানে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণত একজন কর্মীর অবসরের আগের বার্ষিক আয়ের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থেকে পূরণ হয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২০২৬ সালে হাউস ও সিনেটে দ্বিদলীয় দুটি বিল আনা হয়েছে, যাতে সমাধানের উপায় পর্যালোচনার কাঠামো ঠিক করা যায়। এছাড়া আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে মূলত তিন ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে: সুবিধা গ্রহণের নিয়মে পরিবর্তন, করের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ানো।

সুবিধা সংক্রান্ত প্রস্তাবে পূর্ণ অবসর গ্রহণের বয়স (ফুল রিটায়ারমেন্ট এইজ) বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ১৯৬০ বা তার পরে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য বর্তমান পূর্ণ অবসরের বয়স ৬৭ বছর, যা কোনো কোনো প্রস্তাবে সর্বোচ্চ উপার্জনকারীদের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ৭০ বছর করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নির্ভরশীলদের সুবিধা পর্যালোচনা এবং সারভাইভার সুবিধার পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

রাজস্ব বাড়াতে পেরোল ট্যাক্সের সীমা প্রত্যাহারের প্রস্তাব আলোচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ ১,৮৪,৫০০ ডলার পর্যন্ত আয়ের ওপর সোশ্যাল সিকিউরিটির পেরোল কর (কর্মচারী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের জন্য ৬.২% করে) প্রযোজ্য হয়। এর চেয়ে বেশি আয়ের ওপর কর ধার্য করা বা সার্বিক করের হার ১২.৪% থেকে বাড়িয়ে ১২.৬% করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের প্রায় ৬৩ লাখ কর্মী যারা বর্তমানে এই ব্যবস্থার বাইরে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং বৈধ বিদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।

কংগ্রেস অতীতে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থায়ন বজায় রাখতে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং সাধারণত বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ক্ষেত্রে হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা হয় না। তবে নীতি পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপরেখা কী দাঁড়ায়, তার ওপর ভবিষ্যৎ অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক পরিকল্পনা অনেকটাই নির্ভর করছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

আইনপ্রণেতারা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ২০৩২ সালের পর সোশ্যাল সিকিউরিটির মাসিক সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রায় ২২ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। এতে অবসরপ্রাপ্তদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাকাউন্টে লগইন করে বিভিন্ন বয়সে অবসর নিলে সম্ভাব্য সুবিধার পরিমাণ কেমন হবে তা যাচাই করা যেতে পারে।
  2. 2বর্তমান নিয়মে ৬৭ বছরের পরিবর্তে ৭০ বছর বয়সে সুবিধা নেওয়া শুরু করলে বার্ষিক সুবিধা স্থায়ীভাবে প্রায় ৮ শতাংশ বাড়ে, আবার ৬২ থেকে ৬৬ বছর বয়সে নিলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে।
  3. 3২০২৬ সালে কর্মক্ষেত্রে ৪০১(কে) বা অনুরূপ প্ল্যানে সর্বোচ্চ ২৪,৫০০ ডলার পর্যন্ত সঞ্চয় করা সম্ভব; ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য অতিরিক্ত ক্যাচ-আপ কন্ট্রিবিউশনের সুযোগ রয়েছে।

সূত্র: Fidelity Learning Center