যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফেডারেল সরকারের ভূমিকা ও সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনবিশেষজ্ঞ ও ভোট বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নির্বাচনের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করলে ভোট পরিচালনা, ব্যালট গণনা ও ফলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রয়টার্সের এক বিশেষ অনুসন্ধানে ৫০ জনের বেশি নির্বাচন কর্মকর্তা, ভোটবিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীর সাক্ষাৎকার এবং সরকারি নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে সম্ভাব্য নয়টি ঝুঁকির ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই ঘটবে—এমন দাবি প্রতিবেদনে করা হয়নি।
নভেম্বরের ৩ তারিখ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি এবং ভোট প্রক্রিয়ায় ফেডারেল উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বলে আসছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিসের দাবি, প্রশাসনের লক্ষ্য হলো নির্বাচনের সততা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাঁর অভিযোগ, ‘সেভ আমেরিকা’ আইনের বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাটরা জনআস্থা নষ্ট করছেন। প্রস্তাবিত ওই আইনে ভোটার নিবন্ধনে নাগরিকত্বের প্রমাণ ও ছবিযুক্ত পরিচয়পত্রের শর্ত রাখা হলেও তা কংগ্রেসে আটকে আছে।
বিশ্লেষকদের চিহ্নিত করা সম্ভাব্য নয়টি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—কারচুপি বা ভোটিং মেশিনে ত্রুটির অভিযোগ তোলা, ফল বদলাতে বা প্রত্যয়ন না করতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দেওয়া, এবং আদালতের পরোয়ানা দেখিয়ে ব্যালট বা সরঞ্জাম জব্দ করা। এ ছাড়া জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের এক হাজার ফেডারেল পর্যবেক্ষক মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতার সীমা সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের কাছে আইসিই বা অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযান চালিয়ে অভিবাসী ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরির আশঙ্কাও আলোচনায় এসেছে; যদিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ স্পষ্ট করেছে যে ভোটকেন্দ্র লক্ষ্য করে অভিযানের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
অন্যান্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা, নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া এবং সামরিক বাহিনী মোতায়েনের চেষ্টা। তবে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে ভোটকেন্দ্রে সেনা পাঠানো বা নির্বাচনি সরঞ্জাম জব্দের কোনো পরিকল্পনা নেই। এ ছাড়া হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়া আসনে আইনি বিরোধের জেরে নির্বাচিতদের কংগ্রেসে দায়িত্ব গ্রহণে বিলম্ব হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
আইন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নির্বাচন পরিচালনার মূল ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে ন্যস্ত এবং কেন্দ্রীয় ক্ষমতার ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ স্পষ্ট। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোটের কাগুজে বা পেপার রেকর্ড থাকে, যা প্রয়োজনে ইলেকট্রনিক ফলাফল পুনরায় যাচাইয়ে কাজে লাগে। অনুসন্ধানের মূল পর্যবেক্ষণ হলো, কোনো একটি পদক্ষেপে পুরো ফল বদলে যাওয়ার চেয়ে একের পর এক তদন্ত ও আইনি বিরোধের কারণে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এই অনুসন্ধানে উঠে আসা ঝুঁকিগুলো বাস্তব রূপ নিলে কোনো আসনের ফল সরাসরি বদলে যাওয়ার চেয়ে আইনি লড়াই ও তদন্তের কারণে ফলের আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়ন দীর্ঘায়িত হতে পারে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
সূত্র: TBN24










