২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের কার্যক্রম পর্যালোচনায় নিছক রাজনৈতিক আনুগত্য বা প্রতিশ্রুতির বদলে তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার চিহ্নিত করতে মধ্যমেয়াদি আত্মসমালোচনার তাগিদ এসেছে।

সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় ব্যাংক খাতের অনিয়ম, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে ধীরগতি, সীমিত রাজস্ব এবং জ্বালানি সংকটের মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচিতে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের মতো উদ্যোগ যুক্ত হয়। তবে এসব কর্মসূচির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করছে সহায়তা কতটা ন্যায্যভাবে পৌঁছাচ্ছে এবং মানুষের আয় কতটা বাড়ছে তার ওপর।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেমেছে প্রায় ৩.৪ শতাংশে এবং ২০২৭ অর্থবছরেও একই হারের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বিনিয়োগ দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট ও ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়েছে। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও ৭.৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

অর্থনীতির পাশাপাশি সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলার মানদণ্ডে সরকারের সাফল্য নির্ধারিত হবে। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল বা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

বাজেটের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা ও বিশ্বব্যাংকের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের মধ্যে বড় ফারাক থাকায় কেবল সামাজিক সহায়তা নয়, বরং বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই সরকারের নীতিগত সাফল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সূত্র: Daily Manab Zamin