বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর অংশ হিসেবে ৫১টি মেডিকেল সেন্টারকে অনুমোদন দিয়েছে মালয়েশিয়ার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (FWCMS)। দুই বছরের বেশি সময় স্থগিত থাকার পর কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এফডব্লিউসিএমএসের ওয়েবসাইটে 'অ্যাক্রেডিটেড মেডিকেল সেন্টারস' বিভাগে এই কেন্দ্রগুলোর নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, কেন্দ্রগুলো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত এবং মালয়েশিয়ার কোম্পানি বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি-র প্রয়োজনীয় অডিট সম্পন্ন করেছে। ইলেকট্রনিক ভিসা উইথ রেফারেন্স (eVDR) আবেদনের আগে কর্মীদের এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক।
অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত, যার মধ্যে রয়েছে এশিয়া ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড মেডিকেল সেন্টার, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, আইচি হাসপাতাল এবং ল্যাব কোয়েস্ট। এছাড়া গাজীপুরের একটি কেন্দ্রও এই তালিকায় রয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করেছে ৮ হাজার টাকা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো মেডিকেল সেন্টার অতিরিক্ত ফি আদায় বা কর্মীদের হয়রানি করতে পারবে না। নির্বাচিত কর্মীরা তাদের পছন্দমতো যেকোনো অনুমোদিত কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা করাতে পারবেন এবং কোনো কেন্দ্র কোনো নির্দিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির অধীনে এককভাবে পরিচালিত হতে পারবে না। এছাড়া মাইগ্র্যামস (MiGRAMS) স্লিপের জন্য কোনো ফি লাগবে না বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের 'শূন্য অভিবাসন ব্যয়' উদ্যোগের আওতায় বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে প্রথম কয়েকটি ফ্লাইট আগামী ডিসেম্বরে চালু হতে পারে। এই উদ্যোগে বোয়েসেলের মাধ্যমে ১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বেসরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাব এসেছে, তবে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর জানিয়েছেন যে এই ব্যয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন নিয়োগ কাঠামোতে মালয়েশিয়া ২৫টি মূল এজেন্সি এবং ৩১২টি সহযোগী এজেন্সিকে অনুমোদন দিয়েছে। উল্লেখ্য, অনিয়ম ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগের জেরে ২০২৪ সালের ৩১ মে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ স্থগিত করেছিল মালয়েশিয়া।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি নির্দিষ্ট করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এটি অতিরিক্ত খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে সাহায্য করতে পারে।
সূত্র: The Daily Star


















