ঢাকার উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর ও সংলগ্ন টেকপাড়া এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চীনা নাগরিকদের প্রকাশ্যে লাইভ ভিডিও ধারণ করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দেড় শতাধিক চীনা নাগরিক মাসের পর মাস ধরে এই এলাকায় স্মার্টফোনে লাইভ স্ট্রিমিং করছেন। রাস্তাঘাট ও চায়ের দোকানের পাশাপাশি অনেক সময় অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর ও ব্যক্তিগত পরিসরে ঢুকে ভিডিও করার কারণে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি তৈরি হয়েছে।

ভিডিও ধারণকারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে অধিকাংশ চীনা নাগরিকই এড়িয়ে যান। তবে ফ্যাংইয়ো নামের এক চীনা নাগরিক জানান, পণ্যের প্রচারণার অংশ হিসেবে তাঁরা চীনের জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম উইচ্যাটে এসব লাইভ প্রচার করেন। চীনা নাগরিকদের সহায়তাকারী বাংলাদেশি গাইড রিতু আক্তার জানান, ভিডিওগুলো উইচ্যাট ও ডুয়িনসহ (চীনা টিকটক) বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করে আয় করা হয়। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ও ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ দেখানোর উদ্দেশেই তারা বিশেষ করে টেকপাড়া এলাকাটি বেছে নিয়েছেন।

চীনা ভাষায় করা এসব লাইভ সম্প্রচার অনুবাদ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে অবস্থান করলেও অনেক চীনা নাগরিক লাইভে দাবি করছেন তাঁরা ভারতের নয়াদিল্লি থেকে যুক্ত হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিবেশ ও মানুষকে হেয় করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যেমন—একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে এক চীনা নাগরিককে বলতে শোনা যায়, স্থানীয়রা ‘গোমূত্রের চা’ বা নদীর নোংরা পানির চা খাচ্ছেন। এছাড়া টিনের ঘরে পাখা না থাকা বা শৌচাগারের চিত্র দেখিয়েও ব্যঙ্গাত্মক বর্ণনা দিতে দেখা গেছে। তবে কাউকে কাউকে বিভিন্ন ভবনে থাকা চীনা ব্র্যান্ডের এসির প্রশংসা করতেও দেখা গেছে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভিডিও করতে করতে অনেক সময় তাঁদের ঘরের ভেতর বা বাথরুমের কাছাকাছি চলে যাওয়া হচ্ছে, যা তাঁদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও ভাষার অজুহাত দিয়ে তাঁরা বিষয়টিকে এড়িয়ে যান। পুলিশ এ বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানিয়েছেন, চীনা নাগরিকেরা কেন এবং কোথায় এসব ভিডিও প্রচার করছেন তা তাঁদের জানা নেই, তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে ঢুকে ভিডিও ধারণ করা গোপনীয়তার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া বাংলাদেশে ভিডিও করে ভারতকে জড়ানো এবং স্থানীয় মানুষকে হেয় করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে।