বাংলাদেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ২ নভেম্বর কার্যকর হওয়া এই মূল্য দেশে এ পর্যন্ত ১২ কেজির সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে অক্টোবরেও সিলিন্ডারপ্রতি দাম বাড়ানো হয়েছিল ২৫২ টাকা। বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের এপ্রিলে যখন বেসরকারি খাতের এলপিজির দাম প্রথম নির্ধারণ করা হয়, তখন ১২ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ছিল ৯৭৫ টাকা। এরপর থেকে ৬৩ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে, কমেছে ২৬ বার এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫ বার।
বিইআরসির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দুই মাসে সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে গ্যাস ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে যোগ হয়েছে ১৭৭ টাকা এবং বিইআরসির নিজস্ব সিদ্ধান্তের কারণে বেড়েছে ২৮৪ টাকা (বাকি ১৪ টাকা ডলারের দর ও অন্যান্য খরচ)। বিইআরসি অক্টোবরে জাহাজভাড়া ও প্রিমিয়াম টনপ্রতি ১৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৫০ ডলার নির্ধারণ করায় সিলিন্ডারপ্রতি খরচ বাড়ে প্রায় ১৪৩ টাকা। এরপর নভেম্বরে কোম্পানি, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফার অংশ সমন্বয়ের মাধ্যমে দাম আরও ১৪১ টাকা বাড়ানো হয়। বর্তমানে ২ হাজার ৬০ টাকার মধ্যে ৫৫ শতাংশ বিশ্ববাজারে গ্যাসের মূল্য, ১৮ শতাংশ জাহাজভাড়া ও প্রিমিয়াম, ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাকি ২১ শতাংশ বা ৪৩৭ টাকা দেশীয় কোম্পানি, ডিলার ও দোকানদারের অংশ।
দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ ঘাটতিও চলছে। দেশে মোট এলপিজি সরবরাহের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। লাইসেন্সধারী ৫২টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৮ থেকে ১০টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত গ্যাস আমদানি করছে। সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি প্রায় স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিগুলো ডিলারদের কাছে সরবরাহ ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেয়। কোম্পানিগুলোর দাবি ছিল, বিশ্ববাজারে পরিবহন খরচ ও প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সরকারি মূল্যে বিক্রি করলে তাদের লোকসান হচ্ছিল। অন্যদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) অভিযোগ, কোম্পানিগুলো কৃত্রিম মজুত গড়ে সংকট তৈরি করে বাড়তি মুনাফা করেছে। বিইআরসি ১২টি আমদানিকারক কোম্পানির কাছে দৈনিক মজুত ও সরবরাহের তথ্য চেয়ে পাঠালেও সেই যাচাইয়ের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
একই সঙ্গে বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অক্টোবরে সরকার-নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার সিলিন্ডার ঢাকায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হয়েছে ভোক্তাদের। এছাড়া সরকারি সংস্থা বিপিসির নিজস্ব এলপিজি আমদানি বা মজুতের পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় সংকটকালীন সময়ে বাজারে হস্তক্ষেপ করে মূল্য নিয়ন্ত্রণের সরাসরি কোনো সক্ষমতা সরকারের হাতে নেই।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন এবং এর ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় রান্নার কাজে। বাসাবাড়িতে পাইপলাইনের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় এলপিজির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। বিশ্ববাজারের ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে বিইআরসির মূল্যবৃদ্ধি এবং খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার প্রবণতা সাধারণ পরিবারের মাসিক খরচে সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে।
সূত্র: Prothom Alo


















