বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করতে ব্যবসায়ীরা অন্তত ১০৭টি প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭টি সমস্যা শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংক্রান্ত। চিহ্নিত এসব বাধা অর্থ, বাণিজ্য, পরিবেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।
শনিবার ব্যবসা সহজীকরণ সংক্রান্ত কমিটির প্রথম সভায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উপস্থিতিতে এই তালিকা তুলে ধরা হয়। ব্যবসা পরিচালনার বাধা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে ২২ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা জানান, শুল্ক ও কর কাঠামোর নানা জটিলতায় ব্যবসা পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, এইচএস কোড নির্ধারণ ও পণ্যের মূল্যায়নে কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা, পণ্য পরীক্ষার নামে দীর্ঘসূত্রতা, বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানে অডিটের নামে ঘুষ দাবি এবং কাঁচামালের অনুমোদনে হয়রানি প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ছাড়া এনবিআরের অটোমেশন ধীরগতিতে চলা, কর ও ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ আটকে থাকা এবং নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অডিটের নামে হয়রানির অভিযোগও সভায় উত্থাপন করা হয়।
বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন এবং ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা বড় সংকট তৈরি করছে।
তবে এই বৈঠকে কিছু তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রূপালী চৌধুরী জানান, নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের পর ফায়ার ও পরিবেশগত চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা না করে কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে; নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিত পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রতিবেদন দেবে। এ ছাড়া সরকারের একটি একক পোর্টালের মাধ্যমে অনুমোদনের আবেদন ও নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না দিলে আবেদনটি অনুমোদিত বলে গণ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সভায় এসব উদ্যোগের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, শুল্ক প্রক্রিয়ায় হয়রানি এবং ছাড়পত্র পেতে দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত কমিটি গঠনের মাধ্যমে এসব বাধা নিরসন ও সেবা অটোমেশনের আওতায় আনলে দেশের সার্বিক বিনিয়োগ পরিবেশ ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি জোরদার হতে পারে।
সূত্র: The Business Standard


















