বাংলাদেশের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বক্তব্যের কঠোর নিন্দা জানিয়ে তাঁর পদত্যাগ ও নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি জানিয়েছে, অন্যদিকে সরকার স্পষ্ট করেছে যে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ডে তাদের সমর্থন নেই।
গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আইজিপি বলেন, প্রয়োজন হলে এবং সরকার অনুমতি দিলে তারা আইনের প্রয়োগ ও ক্রসফায়ারে যেতে প্রস্তুত। পুলিশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের অংশ হিসেবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্যের পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি। টিআইবি আইজিপির নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের কোনো অনুমোদনই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দিতে পারে না এবং সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জীবনের সুরক্ষা নির্বাহী আদেশে বাতিল করা যায় না।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কথিত ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে ২,৯৫৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে পুলিশের অভিযানে ১,৩৭১ জন এবং র্যাবের হাতে ১,২০০ জন নিহত হন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা ব্যাপকভাবে কমে এসেছে।
বিতর্ক সৃষ্টির পর পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। প্রথমে বলা হয়, শব্দটি আক্ষরিক অর্থে অর্থাৎ গুলির জবাবে গুলি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছিল। পরে আরেকটি ব্যাখ্যায় বলা হয়, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান বোঝাতে শব্দটি ‘রূপক’ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সমালোচকরা এই ব্যাখ্যাকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না।
সরকারের পক্ষ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান জানান, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সরকার কোনোভাবেই সমর্থন করে না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিতবাহী শব্দ ব্যবহার আইনের শাসন ও সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সরাসরি পরিপন্থী বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, এমন মন্তব্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে বেআইনি বলপ্রয়োগের পরোক্ষ অনুমোদন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: The Business Standard


















