বাংলাদেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট, দুর্বল ঋণব্যবস্থা ও দক্ষতার ঘাটতি থাকলেও সম্প্রতি রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে পণ্য রপ্তানি ৬.৩৪ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৩.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মোট রপ্তানির প্রায় ৮০.৮ শতাংশ বা ১০.৫৮ বিলিয়ন ডলার এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। একই সময়ে ওষুধ রপ্তানি ৪০.৩৯ শতাংশ, পাট ও পাটপণ্য ৩১.৫৫ শতাংশ, হালকা প্রকৌশল ১৬.৫১ শতাংশ এবং চামড়াজাত পণ্য ১৪.৭৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে কৃষিপণ্য ও মাছ রপ্তানিতে পতন হয়েছে।
রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা থাকলেও সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জুন নাগাদ ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩.২ শতাংশে, যা আগের বছরের ডিসেম্বরে ছিল ৩০.৬ শতাংশ। এছাড়া প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।
বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও গুণগত পরিবর্তনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় ১.৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও মূল ইকুইটি মূলধন বেড়েছে মাত্র ১.৮৪ শতাংশ। মোট প্রবাহের বড় অংশই এসেছে মূলত পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় ও আন্তঃকোম্পানি ঋণ থেকে।
শিল্প উৎপাদনের আরেকটি প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি সংকট। পেট্রোবাংলার তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৬১৯ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩১ থেকে ৩৫ শতাংশ কম। গ্যাসের চাপ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত করছে এবং সময়মতো পণ্য সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি করছে।
আসন্ন এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রেও প্রস্তুতি পর্যালোচনার বিষয় রয়েছে। জাতিসংঘের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬ উত্তরণের তারিখ থাকলেও বাংলাদেশ প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন করেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বাইরেও আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন নীতি ও পরিবেশগত শর্তের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিল্প খাতে কারিগরি দক্ষতা ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
জ্বালানি ঘাটতি ও ব্যাংক খাতের রেকর্ড খেলাপি ঋণ নতুন শিল্পায়ন ও স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরিতে বড় বাধা তৈরি করছে। একক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়টি সামনে আসছে।
সূত্র: Daily Manab Zamin


















