মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যেও ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে অক্টোবরে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ২৮৭ কোটি ডলার (২.৮৭ বিলিয়ন ডলার)। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহ ১২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। গত বছরের অক্টোবরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৫৬ কোটি ডলার।

মাসিক ভিত্তিতেও প্রবাসী আয় বেড়েছে। অক্টোবরের এই আয় সেপ্টেম্বর মাসের ২৭৭ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশে এসেছে ১,১৪৭ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১,০১৫ কোটি ডলারের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি। এর আগে জুলাইয়ে ২৮৬ কোটি এবং আগস্টে ২৯৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্সের উৎস সৌদি আরব, যেখানে প্রায় ৩৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি বাস করেন এবং মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ২০ শতাংশ সেখান থেকেই আসে। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের রিয়াদে হামলার কারণে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় দুইজন বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়া ও নিরাপত্তাহীনতায় সেখানে কর্মীদের দৈনন্দিন জীবন বিঘ্নিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, অক্টোবরে সৌদি আরবে হামলার ঘটনার পর রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও প্রবাহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, প্রবাসী আয় এখনো অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী সূচক হিসেবে কাজ করছে। তবে সংকট দীর্ঘায়িত হলে জনশক্তি রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিপিএম৬ (BPM6) অনুযায়ী দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩,১৪৬ কোটি ডলারে এবং মোট রিজার্ভ ছিল ৩,৬৩৩ কোটি ডলার। বিপিএম৬ হিসাবটি তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ নির্দেশ করে। আগস্ট মাসের ৫৭৬ কোটি ডলারের আমদানি ব্যয়ের ভিত্তিতে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব, যা আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত তিন মাসের মানদণ্ডের চেয়ে বেশি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখছে। আগস্টের আমদানি ব্যয়ের ভিত্তিতে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ সাড়ে পাঁচ মাসের আমদানি খরচের সমতুল্য, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রয়োজনীয় তিন মাসের মানদণ্ডের চেয়ে বেশি।

সূত্র: bdnews24.com