পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ ও কারখানা ছুটির মুখে তৈরি পোশাক খাতের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। রবিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী।

শনিবার ঢাকার মিরপুর, গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল এবং সাভারের আশুলিয়ায় শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নামেন। এর ফলে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং প্রায় ১০০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। আশুলিয়ায় অন্তত ৩০টি কারখানা কাজ বন্ধ রাখে। বিক্ষোভ চলাকালে আশুলিয়ায় ইটপাটকেলের আঘাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে কোনো কারখানা বন্ধের খবর পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকরা কাজে না ফিরলে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ রাখা হতে পারে। এই ধারার আওতায় কারখানা বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট সময়ের জন্য শ্রমিকরা মজুরি পান না।

শ্রম আইন অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠনের নিয়ম রয়েছে, যার বর্তমান মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। শ্রমিক প্রতিনিধিরা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। সরকার, মালিকপক্ষ এবং কিছু শ্রমিক নেতার পক্ষ থেকে বিক্ষোভে বহিরাগতদের উসকানির অভিযোগ তোলা হলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

পোশাক খাত বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস। নতুন মজুরি বোর্ড গঠন হলে তৈরি পোশাক খাতের লাখ লাখ শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন পুনর্নির্ধারণের পথ তৈরি হবে এবং কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ওপর তা সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

সূত্র: The Business Standard