দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিক্রমার পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলেও বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) ত্রিমুখী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দৈনিক আমাদের সময়ে মানবজমিনের বরাতে প্রকাশিত এক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বর্তমান পরিস্থিতিকে রূপক অর্থে ‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে একদিকে রয়েছে প্রশাসনযন্ত্রের ভেতর আওয়ামী লীগের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এবং অন্যদিকে রাজপথে জামায়াতে ইসলামীর শক্ত অবস্থান।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে প্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে পূর্বতন শাসকগোষ্ঠীর যে নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছিল, তা নতুন সরকারের জন্য বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা এবং ফাইলে অনীহার মতো বিষয়গুলো সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলোকে ব্যাহত করছে।
একই সময়ে রাজপথে সাবেক জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী এখন আর কোনো আজ্ঞাবহ শক্তি হিসেবে নেই, বরং পরিবর্তিত রাজনৈতিক শূন্যতায় নিজেদের স্বতন্ত্র ও পরাক্রমশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে ডানপন্থী রাজনৈতিক পরিসরে দলটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা বিএনপির তৃণমূল সংগঠনের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের কাছে গণতান্ত্রিক সহনশীলতার ভাবমূর্তি রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা থাকায় জামায়াতের তৎপরতা মোকাবিলায় ক্ষমতাসীন দলকে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
বাইরের এই দুই চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও বিশ্লেষণে আলোকপাত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর আকস্মিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব আসায় প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কিছু দিক প্রকাশ পাচ্ছে। এছাড়া কিছু নেতা-কর্মীর মধ্যে আধিপত্য ও সম্পদ দখলের প্রবণতা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নতুন জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে হঠকারী পদক্ষেপের বদলে দলীয় শৃঙ্খলা এবং সুপরিকল্পিত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: Daily Amader Shomoy


















