ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন দেশটির বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রান-অফ ভোটে তিনি ডানপন্থি সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে প্রায় ৪০ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়, লুলা পেয়েছেন ৫১.৭৫ শতাংশ বা ৬ কোটি ৪২ লাখের বেশি ভোট। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮.২৫ শতাংশ বা ৫ কোটি ৯৮ লাখের বেশি ভোট। ব্রাজিলের আধুনিক ইতিহাসে প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থেকেও রান-অফে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়ার নজির এই প্রথম।
প্রথম দফার নির্বাচনে লুলা প্রতিপক্ষের চেয়ে ২২ লাখ ভোটে পিছিয়ে ছিলেন। তবে রান-অফের আগে তিনি প্রচারণায় বেশ কিছু নীতিগত পরিবর্তন আনেন। সপ্তাহে ছয় দিনের বদলে পাঁচ দিন কাজের নিয়ম, ঋণ মওকুফ এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিনামূল্যে গণপরিবহন সুবিধার মতো জনবান্ধব অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করে। এ ছাড়া প্রথম দফায় ভোট না দেওয়া বিপুল সংখ্যক মানুষের মাঠে নামা এবং নারী ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন লুলার জয়ে মূল ভূমিকা পালন করে। ধর্মীয় অবস্থানের ক্ষেত্রে ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের ৬২ শতাংশ ফ্লাভিওর পক্ষে থাকলেও ৫২ শতাংশ ক্যাথলিক ভোটার লুলার ওপর আস্থা রাখেন।
এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলে রেকর্ড চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লুলা। তবে নির্বাচনের ফল মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্টিয়ানো জানিনের ভোটগ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য দাবি করে ফলাফল বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ফ্লাভিওর প্রচারণায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অভিশংসন, সংবিধান সংশোধন এবং অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে কারামুক্ত করার প্রতিশ্রুতি ছিল।
নির্বাচনী লড়াইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। লুলার শিবিরের অভিযোগ ছিল, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্রগতিশীলদের কনটেন্ট আড়াল করে ফ্লাভিওর প্রচারণাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছিল। পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের নির্বাচনী আদালত প্ল্যাটফর্মটিকে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দেয়। ফল প্রত্যাখ্যান ও কংগ্রেসে ডানপন্থিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নতুন মেয়াদে সমাজ ও আইনসভার তীব্র মেরুকরণের মুখে লুলাকে সরকার পরিচালনা করতে হবে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এই নির্বাচনের ফলাফল আমাজন রেইনফরেস্ট সুরক্ষা, আদিবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রাজিলের নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে এটি লাতিন আমেরিকায় সাম্প্রতিক ডানপন্থি রাজনীতির উত্থানে বড় বাধা হিসেবে কাজ করবে এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ব্রিকস ও গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে দেশটির স্বাধীন কূটনীতি ও বাণিজ্যিক অবস্থানকে জোরদার করবে।
সূত্র: Daily Manab Zamin


















