কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে একই পরিবারের ছয়জনসহ ১০ পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনার পরও সৈকতসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়া হোটেল-রিসোর্ট পরিচালনা এবং নতুন স্থাপনা নির্মাণের কাজ অব্যাহত রয়েছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টটির কাছেই প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) কোনো অগ্নিনিরাপত্তা সনদ বা ছাড়পত্র ছাড়াই ‘কোরাল বিচ রিসোর্ট’ নামের আরেকটি স্থাপনা তৈরি হচ্ছে, যেখানে অগ্নিনির্বাপণ কোনো ব্যবস্থাও পাওয়া যায়নি।
বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে দুই হাজারের বেশি আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১৫টি প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তা সনদ এবং ৪৪টির পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে। সাত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলো নোটিশ দিলেও মাঠপর্যায়ে নির্মাণ বা পর্যটক রাখার কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনার মধ্যে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে প্রায় ২৫০টি। তারকা মানের কয়েকটি ছাড়া এগুলোর অধিকাংশেরই বৈধ অনুমোদন নেই। নির্মাণে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দেড় শতাধিক স্থাপনাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। শহরের আটতলা হোটেল ‘কক্স রোটানা’সহ একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা ও পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই বলে ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, ইসিএভুক্ত এলাকায় হোটেল-কটেজ নির্মাণের সুযোগ আর দেওয়া হবে না। শীত মৌসুমে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে যেসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ সনদ নেই, সেগুলো সিলগালা করার ওপর তিনি জোর দেন। গত এক বছরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কার্যক্রম ও বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের দায়ে কক্সবাজারে ৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে এবং সেন্ট মার্টিনের ৩৪টিসহ শতাধিক রিসোর্টের বিরুদ্ধে মোট ২৮টি মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
এদিকে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় পুলিশ রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১৯ জনকে আসামি করে মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং গত দুই সপ্তাহে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিবছর কক্সবাজারে প্রায় ৯০ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন। পর্যটন খাতের দ্রুত প্রসারের তুলনায় অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ও পরিবেশগত নিয়ম মানার হার অত্যন্ত কম হওয়ায় বিপুলসংখ্যক ভ্রমণকারীর জীবন বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
সূত্র: Prothom Alo


















