ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ভূমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণে ব্যাপক জালিয়াতি ও ভুয়া বিল তৈরির তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। দৈনিক মানবজমিনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সিন্ডিকেট মিলে জমি ও অবকাঠামোর ভুয়া অধিগ্রহণ দেখিয়ে অন্তত ২৩২ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং সেতুমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে দুদক কাজ করছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গণপূর্ত সাভার সার্কেলের তৎকালীন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের এল.এ শাখার সঙ্গে যৌথভাবে আশুলিয়া, বাইপাইল ও ইপিজেড অংশের স্থাপনা পরিমাপ ও ক্ষতিপূরণের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সুযোগে নথিপত্র জালিয়াতি করে এবং স্থাপনার প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে ভ্যালুয়েশন করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্পের সীমানা থেকে ২০ থেকে ৫০ ফুট দূরে অক্ষত থাকা ভবনকেও অধিগ্রহণ তালিকায় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ বিল তৈরি ও উত্তোলন করা হয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বিল আটকে দিয়ে বা কমিশন নিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে নিজেদের নামেও চেক ছাড় করিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে মিজানুর রহমানের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাভার ডিওএইচএসসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্লট, বাড়ি ও ফ্ল্যাট এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার প্রমাণ মিলেছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর ও তাঁর সহযোগীদের হিসাবে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের নথিপত্র পাওয়া গেছে। অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে একাধিক দফায় বদলি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপ-বিভাগ-২ এ কর্মরত রয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের কিলোমিটার প্রতি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ১২৭ কোটি টাকা, যা অন্যান্য দেশের উড়াল সড়কের তুলনায় অনেক বেশি। ভুয়া অধিগ্রহণ ও মাত্রাতিরিক্ত বিলিং প্রকল্পের সামগ্রিক নির্মাণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের ক্ষতি করেছে।

সূত্র: Daily Manab Zamin