রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে অনলাইনে মাদক বিক্রির একটি চক্রের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মাদক কেনাবেচার এই চক্রটিতে ওয়েবসাইট ও গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করা হতো, যেখানে কুশ ও সিনথেটিক গাঁজা বিক্রি করা হচ্ছিল।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা ক্যাম্পাসে মাদকসেবী শিক্ষার্থীদের কাছে কিউআর কোডযুক্ত ভিজিটিং কার্ড বিতরণ করতেন। সেই কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হতো এবং সেখান থেকে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হতো একটি গোপন টেলিগ্রাম গ্রুপে।

গত শুক্রবার রাজধানীর ভাটারা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সাইম ইসলাম (১৯) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় সংস্থাটির পরিদর্শক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি মামলা করেছেন।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার সাইম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, প্রায় দুই মাস আগে মাদক বিক্রির জন্য তিনি একটি ওয়েবসাইট খোলেন এবং টেলিগ্রামে একটি গোপন গ্রুপ তৈরি করেন। ওই গ্রুপে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থী যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুই সপ্তাহ ধরে তিনি কুশ ও সিনথেটিক গাঁজা বিক্রি করছিলেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, মাদক কারবারিরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন কৌশলে বিক্রির চেষ্টা করছে। গোয়েন্দা দল সাইবার নজরদারির মাধ্যমে এসব কার্যক্রম শনাক্ত করে অভিযান চালাচ্ছে। অভিযানে উচ্চমাত্রার সিনথেটিক গাঁজা, কুশ সিড ও মাদক প্রক্রিয়াজাতকরণের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

উচ্চশিক্ষার ক্যাম্পাসে মাদক চক্র প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিউআর কোড, ওয়েবসাইট ও এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যা মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন সাইবার চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সূত্র: Prothom Alo