দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গাজীপুর-বিমানবন্দর বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত ১৮ অক্টোবরের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তের আওতায় প্রকল্পটির নির্মিত বেশিরভাগ অবকাঠামো ভেঙে ফেলে করিডোরটিকে সাধারণ মহাসড়কে ফিরিয়ে আনা হবে।

প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারের ২,৮১১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০১২ সালে প্রায় ২,০৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছিল। পরবর্তী সময়ে দফায় দফায় ব্যয় বেড়ে তা ৪,২৬৮ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। সম্প্রতি প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো এবং ব্যয় প্রায় ৬,৫৯৮ কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করা হলেও তা নাকচ হয়। নথিপত্র অনুযায়ী, অবকাঠামোগত কাজ প্রায় ৯৭ শতাংশ সম্পন্ন হলেও সামগ্রিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছিল ৭৭.৪৮ শতাংশে।

শুরু থেকেই প্রকল্পটিতে নকশাগত মারাত্মক ত্রুটি ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সরু ও ব্যস্ত শিল্প মহাসড়কের ঠিক মাঝখানে ১৫টি ট্রানজিট স্টেশন নির্মাণ করায় পণ্যবাহী ট্রাক ও স্থানীয় পরিবহন চলাচলের জন্য দুই পাশে সামান্য জায়গা অবশিষ্ট ছিল। এছাড়া প্ল্যাটফর্মগুলো ডান দিকে দরজা থাকা বিশেষ বাসের জন্য তৈরি করা হয়েছিল, যা বাংলাদেশে প্রচলিত বাম দিকে যাত্রীদের ওঠানামার নিয়মের বিপরীত। কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও স্বাধীন পরামর্শকরা দীর্ঘ সময় ধরে এই নকশা নিয়ে আপত্তি জানালেও তা অগ্রাহ্য করা হয়েছিল।

প্রকল্প চলাকালীন দীর্ঘ ভোগান্তির পাশাপাশি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনাও ঘটে। নির্মাণকালে মোট সাতজনের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে উত্তরার সড়কে গার্ডার ধসে একটি গাড়ির একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। অবকাঠামো নির্মাণ প্রায় শেষ হলেও এর মাধ্যমে কোনো পরিবহন সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

হাজার কোটি টাকার সরকারি তহবিল ও দীর্ঘ ১৪ বছরের গণভোগান্তির পর প্রায় সমাপ্ত একটি মেগা প্রকল্প বাতিল এবং তা ভেঙে ফেলার এই সিদ্ধান্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আমলাতান্ত্রিক তদারকির ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ব্যর্থতার নজির সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: The Business Standard