সৌদি আরবের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু এই বিমানবন্দর লক্ষ্য করেই অন্তত ২০ বার হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে, যার বেশির ভাগ প্রতিহত করা গেলেও সব কটি ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখলের পর সরকারি অস্ত্রভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মধ্য দিয়ে হুতিদের সামরিক উত্থান গতি পায়। পরবর্তী সময়ে চোরাচালানের মাধ্যমে সংগৃহীত সামরিক প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ এবং নিজস্ব সংযোজনের ওপর ভিত্তি করে তারা একটি বড় অস্ত্রভান্ডার গড়ে তুলেছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, হুতিদের হাতে বর্তমানে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং একাধিক নজরদারি ও আক্রমণকারী ড্রোন রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউট ও কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের (সিএআর) অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হুতিদের অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যবহারের জন্য ইরান ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি বিশেষ যন্ত্রাংশ বিভিন্ন পথে ইয়েমেনে প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের হাতে জব্দ হওয়া চালানে ক্ষেপণাস্ত্রের রকেট ইঞ্জিন, তাপনিরোধক উপাদান এবং ভারসাম্য রক্ষার যন্ত্রাংশের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে জটিলতা এবং হুতিদের বাব আল-মানদেব প্রণালিসহ লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানি পথ বড় ধরনের সামরিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে বাণিজ্যিক নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি আরবের নেওয়া সামরিক উদ্যোগগুলোর বিপরীতে হুতিদের এই ধারাবাহিক হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার সক্ষমতা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করেছে।

সূত্র: Prothom Alo