মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় আগস্ট পর্যন্ত ১১৫টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান এবং তাদের সমর্থিত মিলিশিয়ারা। এসব হামলায় শত শত কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।

কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব আক্রমণ চালানো হয়। তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যেই সামরিক ঘাঁটিগুলোর শত শত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

হামলাগুলো মূলত দুই ধাপে পরিচালিত হয়। প্রথমে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়, যাতে আক্রমণ শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তী ধাপে বিমানের হ্যাঙ্গার, গুদাম, জ্বালানি বাংকার, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং সেনাদের থাকার জায়গায় আঘাত করা হয়।

সংঘাতের প্রথম দুই দিনের মধ্যেই কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান এবং বাহরাইনের নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটিতে থাকা মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেসে থাকা বহনযোগ্য রাডার ইউনিটেও আঘাত লাগে। জর্ডানে ধ্বংস হওয়া একটি আর্মি রাডারের আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি ডলার, যা বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে থাকা মাত্র ১৩টি রাডারের একটি। এছাড়া কাতারে থাকা ১১০ কোটি ডলার মূল্যের আরেকটি বিশেষ রাডার ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে কুয়েত। সেখানকার আলী আল সালেম এয়ার বেসে অন্তত ৩০ বার হামলা চালানো হয়, যার ফলে ১৫টি বিমানের হ্যাঙ্গার, বেশ কয়েকটি গুদাম এবং সেনাদের থাকার জায়গার কাছের ১০টি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া ক্যাম্প বুহরিংয়ে সেনাদের জিম, ডাইনিং রুম এবং মূল গ্যারেজসহ ৩০টিরও বেশি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১ মার্চ পোর্ট শুয়াইবায় ড্রোন হামলায় ছয়জন সেনা নিহত হন, যা মার্কিন কর্মীদের ওপর একক ঘটনায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে হামলার কারণে দুটি আকাশ থেকে জ্বালানি ভরার বিমান (রিফুয়েলিং ট্যাঙ্কার) এবং একটি বোয়িং ই-থ্রি সেন্ট্রি নজরদারি বিমানের পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে রিয়াদের মার্কিন দূতাবাসে থাকা সিআইএ ইউনিটেও আঘাতের ঘটনা ঘটে। পুরো অঞ্চলে অন্তত ১৫টি মার্কিন বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এই পরিস্থিতি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিগুলোর সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে যখন সস্তা ড্রোন ব্যবহার করে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অচল করে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এ ক্ষতির বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে পেন্টাগনের মুখপাত্ররা দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী সেখানে এখনও পর্যাপ্ত সুরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আক্রান্ত স্থানগুলোর স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে মার্কিন কর্তৃপক্ষ স্থগিতাদেশের অনুরোধ জানিয়েছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থায়ী সামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মার্কিন বাহিনীকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে হয়েছে, যা ড্রোন যুদ্ধের বিরুদ্ধে স্থায়ী প্রতিরক্ষার দুর্বলতাকে সামনে এনেছে।

সূত্র: The Business Standard