ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কোনো দল বা জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার নেসেটের বিরোধী দলনেতা ইয়ার লাপিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকট। বৈঠক শেষে তিনি নেতানিয়াহু-বিরোধী দলগুলোকে নিয়ে একটি বৃহত্তর জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এই সম্ভাব্য জোটের আলোচনায় আরব দলগুলোকে বাইরে রেখেছেন তিনি।

গত ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ২৯ অক্টোবরের প্রাথমিক ভোটগণনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার মিত্র দলগুলো পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে ইয়াশার, বি’ইয়াচাদ ও দ্য ডেমোক্র্যাটসসহ বিরোধী দলগুলোর ঝুলিতে গেছে ৪৮টি আসন। এছাড়া আরব দল জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পেয়েছে ১৮টি আসন। ভোট গণনা সম্পন্ন হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি; আগামী ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে।

আইজেনকট নতুন সরকারে অংশ নেওয়ার জন্য চারটি সুনির্দিষ্ট শর্ত উপস্থাপন করেছেন। প্রথমত, ইসরায়েলকে ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদারপন্থী ও সমানাধিকারের রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশটির স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত মূল নীতি ও মূল্যবোধ মেনে চলতে হবে। তৃতীয়ত, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। চতুর্থত, হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে জোটের সব পক্ষকে একমত হতে হবে।

সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে আইজেনকট বিরোধী শিবিরের অন্যান্য সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। ইসরায়েলের সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ঠিক করেন কোন নেতাকে প্রথমে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়ায় এগিয়ে থাকতেই বিরোধী দলগুলোর সমর্থন সমন্বয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে সরকার গঠনের দৌড়ে পিছিয়ে নেই নেতানিয়াহুর দলও। বিরোধী দলনেতা ইয়ার লাপিদের অভিযোগ, সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যা মেলাতে লিকুদ শিবির বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের ভাঙানোর চেষ্টা করছে। লাপিদের দাবি অনুযায়ী, শিক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ কিশ, আলমগ কোহেন এবং নেতানিয়াহু-ঘনিষ্ঠ লিকুদের ভাবি আইনপ্রণেতা ইয়াকভ বারদুগো ইয়াশার দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে তাদের মধ্যে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহুর ডানপন্থী শিবিরকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে আইজেনকটের এই চার শর্তভিত্তিক জোট গঠনই এখন বিরোধী শিবিরের একমাত্র বিকল্প কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: Ei Samay