ইসরায়েলের আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও অন্যতম আলোচিত চরিত্রে পরিণত হয়েছেন আরব-ইসরায়েলি রাজনীতিক মনসুর আব্বাস। ইসলামপন্থী দল ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাম)-এর প্রধান হিসেবে তিনি সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ও মধ্য-বামপন্থী ইহুদি আইনপ্রণেতা ইয়াভ সেগালোভিচকে তাঁর দলের প্রার্থী তালিকায় ২ নম্বর স্থানে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মূলধারার কোনো আরব ও জায়নবাদী ইহুদি রাজনীতিবিদের মধ্যে এ ধরনের নির্বাচনী সমঝোতা এবারই প্রথম।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারণায় মনসুর আব্বাসকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইহুদি ভোটারদের সতর্ক করা হচ্ছে। নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তাঁর বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে প্রকৃত ক্ষমতা মনসুর আব্বাসের হাতে চলে যাবে। অন্যদিকে আব্বাসের লক্ষ্য নেতানিয়াহুর সরকারকে হটিয়ে এমন একটি নতুন সরকার গঠনে অংশীদার হওয়া, যেখানে দেশের প্রায় ২০ শতাংশ আরব নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকারের পক্ষে সরাসরি প্রভাব রাখা সম্ভব হবে। এর আগে ২০২১ সালেও বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আব্বাস টানা ১২ বছর পর নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রেখেছিলেন।
পেশায় দন্ত চিকিৎসক থেকে রাজনীতিতে আসা ৫২ বছর বয়সী মনসুর আব্বাস ২০১৯ সালে প্রথম ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে নির্বাচিত হন। সাধারণত আরব ও ইসলামপন্থী দলগুলো ইসরায়েলে সরকার গঠনের বাইরে থাকলেও আব্বাস ক্ষমতার অংশীদার হয়ে সুবিধা আদায়ের কৌশলে বিশ্বাসী। তিনি লোড শহরে ক্ষতিগ্রস্ত সিনাগগ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার প্রকাশ্য নিন্দা করেছেন। তবে এর ফলে নিজের সম্প্রদায়ের একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি। ইসরায়েলের আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাড়তে থাকা অপরাধ, সহিংসতা ও বৈষম্যমূলক আবাসন সমস্যা সমাধানকেই তিনি তাঁর রাজনীতির মূল অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছেন।
বিরোধী দলগুলো কট্টর ডানপন্থী ভোটারদের প্রতিক্রিয়ার ভয়ে মনসুর আব্বাসের সঙ্গে প্রকাশ্যে দূরত্ব বজায় রাখলেও সরকার গঠনের আসনসংখ্যা মেলাতে তাঁর সমর্থন অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে। সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী সেগালোভিচকে সঙ্গে নিয়ে আব্বাস এই জোট গঠনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাইছেন যে সরকার পরিচালনায় আরব ও ইহুদিদের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব সম্ভব।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ইসরায়েলের বহুদলীয় নির্বাচনী সমীকরণে নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর জন্য সরকার গঠন করতে মনসুর আব্বাসের সমর্থন অপরিহার্য হতে পারে। একই সঙ্গে তাঁর এই কৌশল ইসরায়েলের মূলধারার রাজনীতিতে আরব সংখ্যালঘুদের ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
সূত্র: Prothom Alo


















