উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরও ২৫ জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পুলিশ এই ঘটনায় শনিবার রাতে চোরবাগান পূজা কমিটির আয়োজক, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়ারসহ ১২ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কলকাতা হাইকোর্টের একজন কর্মরত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি এবং পুলিশ ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে মণ্ডপ প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, পূজা চলাকালীন হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বাইরে অপেক্ষমাণ দর্শনার্থীরা একসঙ্গে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়িতে কয়েকজন সড়কে পড়ে যান এবং পদদলনের সূত্রপাত হয়। এছাড়া আয়োজকদের একটি ঘোষণার পরও হঠাৎ দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ে বিভ্রান্তি এবং ভিআইপি গেট বাদে সাধারণ অংশে পুলিশের অপর্যাপ্ত মোতায়েন পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিল।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি ২৫ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা ও পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরির ঘোষণা দিয়েছে। আহতদের প্রত্যেককে ৫ লাখ রুপি প্রদান এবং যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকার বহন করবে বলে জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে রাজ্যজুড়ে বড় পূজা মণ্ডপগুলোর ভিড় ব্যবস্থাপনা, জরুরি নির্গমন পথ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা পর্যালোচনার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ সিনহা, ফায়ার সার্ভিসের ডিজি অনুজ শর্মা এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) জাভেদ শামীমকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত ভিড় হওয়া বেশ কয়েকটি মণ্ডপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর নির্ধারিত মণ্ডপ পরিদর্শন কর্মসূচি স্থগিত করে আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
কলকাতা শহরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পূজা মণ্ডপে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। এই দুর্ঘটনার পর মণ্ডপগুলোর সার্বিক ভিড় ব্যবস্থাপনা, জরুরি বহির্গমন সুবিধা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের ত্রুটি সামনে এসেছে, যার ফলে রাজ্যজুড়ে অন্যান্য বড় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
সূত্র: The Business Standard


















