ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমনে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিক্ষোভকারীদের আটক এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আন্দোলনকারীদের ওপর নজরদারির অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ছয়জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। আগামী সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তাকে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এ বিষয়গুলো ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রমিলা জয়াপাল, ইলহান ওমর, জেমস পি ম্যাকগভার্ন, রাশিদা তালিব, এলিনর হোমস নর্টন ও জেসুস গার্সিয়া। আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে গিয়ে মুম্বাইয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কো রুবিওর। আইনপ্রণেতারা এই সফরকে মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন।
আইনপ্রণেতারা জানান, দিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় দমন-পীড়ন, অন্যায়ভাবে আটক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। চিঠিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনের প্রসঙ্গও আনা হয়।
ভারতের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম (এসআইআর) নিয়েও চিঠিতে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। প্রমিলা জয়াপাল অভিযোগ তোলেন, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই করাই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। জয়াপালের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা একে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছেন।
চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে থাকা কনস্যুলেটগুলো সিজেপির সমর্থনে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ছবি তুলে নজরদারি করার জন্য আলোকচিত্রী নিয়োগ করেছিল। আইনপ্রণেতারা এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত চেয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হয়রানির সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ভারতের অস্ত্র কেনার যোগ্যতা পর্যালোচনার কথাও তারা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে এই ছয় আইনপ্রণেতার চিঠির সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতা ও সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা অজয় জৈন ভুটোরিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং এমন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে। তিনি বলেন, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং তাদের নিজস্ব শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন সফরের প্রাক্কালে কংগ্রেস সদস্যদের এই চিঠি মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ককে ওয়াশিংটন ও দিল্লির দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে কনস্যুলার নজরদারির অভিযোগ এবং অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের পর্যালোচনার প্রস্তাব দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: Daily Manab Zamin


















