যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম আমেরিকানদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা ও ভয়ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে সতর্ক করেছে নাগরিক অধিকার বিষয়ক সংস্থা মুসলিম পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল (এমপ্যাক)। সংস্থাটির এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত উপস্থিতি ডাকার পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যা ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম আমেরিকান ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে সেন্টার ফর সিকিউরিটি, টেকনোলজি অ্যান্ড পলিসি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মসজিদগুলোর বাইরে উগ্র সমাবেশ, প্রকাশ্য আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি তৈরি, নজরদারি এবং অনলাইনে উত্তেজনাপূর্ণ প্রচার চালানো হচ্ছে। এমপ্যাকের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এরপর ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট বা গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা মুখোমুখি সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে অপরাধমূলক প্রচার চালানো হয়। পরবর্তীতে এই বয়ান ব্যবহার করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি বা ফেডারেল হস্তক্ষেপের দাবি তোলা হয়। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এ ধরনের অস্থিরতা বড় কোনো ফেডারেল পদক্ষেপের অজুহাত হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য এ ধরনের তৎপরতার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আগামী ৩ নভেম্বর মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ জয়ী হলে তিনি হতে পারেন মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সমর্থকেরা মুসলিম নেতাদের নিশানা করে বক্তব্য জোরদার করেছেন। মিশিগানের পোর্ট হিউরনে এক সমাবেশে ট্রাম্প সায়েদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক অভিযোগ তোলেন, যদিও এসব দাবির কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগস্টে মুসলিমপ্রধান ডেয়ারবর্ন হাইটসে কু ক্লাক্স ক্লান হাজার হাজার প্রচারপত্র ছড়ায় এবং খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী হুতারে মিলিশিয়ার এক সমাবেশের পর ডেয়ারবর্নে যাওয়ার উসকানি দেখা যায়। এছাড়া ডেয়ারবর্নে এক মুসলিম জমায়েতে ডানপন্থী উসকানিদাতা জ্যাক ল্যাংয়ের সমাবেশে পুলিশের হস্তক্ষেপে ২২ জন গ্রেপ্তার হয়।
ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলার এমন পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগ ডেট্রয়েট, হ্যামট্রাম্যাক, ল্যান্সিং ও ইস্ট ল্যান্সিংয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তারা পক্ষপাতমূলক নজরদারির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। এছাড়া সায়েদের রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স ডেট্রয়েটের ভোটকেন্দ্রে সাবেক বা দায়িত্ববহির্ভূত পুলিশ কর্মকর্তাদের পোল ওয়াচার হিসেবে মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
নির্বাচন ও ধর্মীয় জমায়েতকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সুপরিকল্পিত উসকানি সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা ও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়তি নজরদারি বা ফেডারেল পদক্ষেপের প্রেক্ষাপট তৈরির ঝুঁকি থাকে।
বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রেক্ষাপট
মিশিগানের হ্যামট্রাম্যাক ও ডেট্রয়েটসহ বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি-আমেরিকান বসবাস করেন। এসব এলাকায় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং মুসলিম কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক প্রচার সরাসরি ওই এলাকার ভোটারদের অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1উসকানিমূলক আচরণ বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সরাসরি বিতর্কে না জড়িয়ে এড়িয়ে চলা।
- 2ভোটকেন্দ্র বা আশপাশে কোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।
- 3নিজের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সম্ভব হলে একা না গিয়ে দলবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া।
সূত্র: Middle East Eye


















