বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বা ৪৭০ কোটি পাউন্ড চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়া সরকার সমর্থিত একটি হ্যাকার গ্রুপকে দায়ী করা হচ্ছে। ব্লকচেইন অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস (TRM Labs) ও চেইনালাইসিস (Chainalysis)-এর গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, এ হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার সাইবার ইউনিট ‘ল্যাজারাস গ্রুপ’ বা ‘ট্রেডারট্রেটর’ জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত উত্তর কোরিয়ার কিম জং–উনের সরকার রাষ্ট্রীয় তহবিল সংগ্রহের জন্য এ ধরনের আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধের ওপর নির্ভর করছে। যদিও উত্তর কোরিয়া বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। পূর্বে ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনাতেও মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই (FBI) এই ল্যাজারাস গ্রুপকেই দায়ী করেছিল। আন্তর্জাতিক ব্যাংক লেনদেন ব্যবস্থা সুইফটের (SWIFT) নিরাপত্তাব্যবস্থার ফাঁক ব্যবহার করে তারা সেই অপারেশন পরিচালনা করেছিল। এছাড়া ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে সাইবার আক্রমণ এবং পরবর্তীতে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনায়ও উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার তথ্য জানিয়েছিল এফবিআই।

বাইন্যান্সের সাম্প্রতিক সাইবার হামলায় হ্যাকাররা একটি বিশেষ অনুমোদন ব্যবহার করে ইন্টারনেট-সংযুক্ত ‘হট ওয়ালেট’ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করে। প্রাথমিকভাবে একজন কম্পিউটার প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার কথা শোনা গেলেও পরে ঘটনার মাত্রা আরও ব্যাপক বলে জানা যায়।

বাইন্যান্সের কো-সিইও রিচার্ড টেং জানিয়েছেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে অননুমোদিত প্রবেশাধিকারের তথ্য মিলেছে। তবে চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যে উদ্ধার ও সুরক্ষিত করা সম্ভব হয়েছে, বাকি অর্থ এখনও উদ্ধার হয়নি।

চেইনালাইসিস জানিয়েছে, এই সাইবার হামলায় হ্যাকাররা অভিনব মানি লন্ডারিং কৌশল ব্যবহার করেছে, যা আগে দেখা যায়নি। চুরি করা ডিজিটাল সম্পদ যাতে সহজে ট্রেস না করা যায়, সে জন্য তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে থাকতে পারে বলেও বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। সাধারণত এই চক্রটি ক্রিপ্টোকারেন্সি দ্রুত বিটকয়েনসহ বিভিন্ন সম্পদে স্থানান্তর করে শেষ পর্যন্ত তা নগদ অর্থে রূপান্তর করে থাকে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার পর এখন বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলো রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকারদের প্রধান নিশানা হয়ে উঠছে। অভিনব প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহার করে সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল আর্থিক প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: Prothom Alo