সুন্দরবনের হরিণ শিকারের ফাঁদে গুরুতর আহত হওয়া প্রায় ১০–১১ বছর বয়সী একটি বেঙ্গল টাইগার বাঘিনীকে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর ২০২৬ সালের ১২ জুলাই পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় অবমুক্ত করা হয়। তবে অবমুক্তির এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও বন বিভাগের বসানো ক্যামেরা ট্র্যাপ কিংবা ড্রোন ও টহল দলের নজরদারিতে বাঘিনীটির আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠার পর আন্ধারমানিকে খাঁচা খোলার সময় বাঘিনীটি কিছুক্ষণ দ্বিধাগ্রস্ত ছিল এবং ধীরগতিতে কাদামাটি পেরিয়ে বনের দিকে যায়। গবেষকেরা অবমুক্তির স্থান থেকে প্রায় ১৫০ মিটার পর্যন্ত বাঘিনীটির পায়ের ছাপ (পাগমার্ক) অনুসরণ করে বনে প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
পরবর্তীতে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে বন বিভাগ প্রথমে প্রায় আট বর্গকিলোমিটার এলাকায় ২০টি ক্যামেরা ট্র্যাপ স্থাপন করে। ২৯ জুলাই পর্যন্ত কোনো ক্যামেরায় তার ছবি না আসায় ক্যামেরার সংখ্যা বাড়িয়ে ৪০টি করা হয় এবং নজরদারির পরিধি শেলা নদীর পূর্ব তীর ও জয়মনি এলাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপরও ২১ আগস্ট পর্যন্ত কোনো ছবিতেই ওই বাঘিনীকে দেখা যায়নি, যদিও আন্ধারমানিকের গভীর অংশে অন্য তিনটি বাঘিনীসহ একাধিক বাঘের উপস্থিতি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
বন কর্মকর্তাদের মতে, ক্যামেরায় ছবি না আসার অর্থ এই নয় যে বাঘিনীটি মারা গেছে। বাঘ সাধারণত দূরদূরান্তে চলাচল করতে পারে এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্ব অতিক্রম করা তাদের পক্ষে স্বাভাবিক। ফলে সে ক্যামেরা বসানো এলাকার বাইরে চলে গিয়ে থাকতে পারে। কোনো রেডিও বা স্যাটেলাইট কলার না থাকায় বাঘিনীটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। বন বিভাগ জানিয়েছে, অবমুক্ত বাঘিনীটির খোঁজে তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাঁদে আহত বাঘকে চিকিৎসা দিয়ে বাঁচিয়ে তোলা একটি বড় সাফল্য হলেও রেডিও কলার ছাড়া অবমুক্ত করায় প্রাণীটির টিকে থাকা বা বনের বাস্তুতন্ত্রের সাথে মানিয়ে নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: The Business Standard


















