মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় আগে দেখার জন্য আর্থিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এবং ওয়াল স্ট্রিটের দুই ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সুসকেহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ ও জাম্প ট্রেডিং মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি) পরিচালিত ‘ট্রুথ এপিআই’ নামের একটি সেবার মাধ্যমে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই প্রযুক্তির গ্রাহকেরা সাধারণ মানুষের চেয়ে প্রায় ৫০ মিলিসেকেন্ড আগে ট্রাম্পের পোস্ট দেখতে পান। আর্থিক বাজারে প্রেসিডেন্টের যেকোনো বক্তব্যের দ্রুত প্রভাব পড়ায় উচ্চগতির অ্যালগরিদমনির্ভর ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এই অতি সংক্ষিপ্ত সময়ের ব্যবধানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি বা নীতিনির্ধারণী ঘোষণা বিশ্লেষণ করে শেয়ার ও তেলের মতো আর্থিক পণ্যের লেনদেন সম্পন্ন করে। যেমন গত এপ্রিলে ইরান যুদ্ধের মধ্যে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেলের ফিউচারসের দাম কমেছিল।
টিএমটিজি গত জুলাইয়ে সেবাটি চালুর ঘোষণা দেয় এবং আগস্টে বিনিয়োগকারীদের জানায় যে ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। তবে রয়টার্স চুক্তির এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ব্লুমবার্গ এবং সংশ্লিষ্ট দুই ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা সেবাটি পর্যালোচনা করে দেখবে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহক হওয়ার পরিকল্পনা নেই।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে অর্থের বিনিময়ে আগাম প্রবেশাধিকার দেওয়ার এ প্রক্রিয়া নৈতিক ও আইনি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও অ্যাডাম শিফ ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল ক্ষমতা ব্যবহারের আশঙ্কায় বিষয়টি তদন্ত করতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি, সরকারি ঘোষণা প্রকাশের ক্ষেত্রে ট্রুথ সোশ্যালকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে আগাম তথ্য বিক্রি করা সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে—এমন অভিযোগে গত আগস্টে মামলা করেছে ইন্টারসেপ্ট মিডিয়া ও ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
টিএমটিজির ৪১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে ট্রাম্পের পারিবারিক ট্রাস্টের হাতে, যার একমাত্র সুবিধাভোগী ট্রাম্প নিজে। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল জানিয়েছেন, ট্রাম্প বা তাঁর পরিবারের কেউ সরাসরি বিনিয়োগ পোর্টফোলিও সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেন না। অন্যদিকে টিএমটিজি রয়টার্সের প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করে জানিয়েছে, তাদের এপিআই সেবা বিভিন্ন খাতের চাহিদা মেটাচ্ছে এবং গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষা করা তাদের অগ্রাধিকার।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ার ও জ্বালানি তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে মিলিসেকেন্ডের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক চুক্তি এবং প্রেসিডেন্টের আর্থিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট থাকার বিষয়টি বাজার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সূত্র: Akhon Samoy


















