স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়েছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসিসহ (সিডিপি) জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক খাতগুলো মূল্যায়ন করে সময় বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক মত দেয়। সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
তবে এই বর্ধিত সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৯ সালের পর উত্তরণ পেছানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই তিন বছর সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উপযোগী রাজস্বনীতি ও শুল্ক-করনীতি প্রণয়ন এবং উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারসুবিধা না থাকলেও প্রতিযোগিতাসক্ষমতা ধরে রাখা। বিশেষ করে ওষুধশিল্পের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক অভিঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের 'স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি' বা মসৃণ রূপান্তর কৌশল বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশল কাঠামোর প্রথম তিন বছরকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ধরে এসব সংস্কার সম্পৃক্ত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানির বিকল্প হিসেবে বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় বাজারগুলোতে ২০৩২ সাল পর্যন্ত রপ্তানিসুবিধা বজায় থাকবে। ফলে এ সময়ের মধ্যে রপ্তানিপণ্যের তালিকা বড় ও বহুমুখী করার উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ রয়েছে।
অর্থনীতিকে টেকসই ও প্রতিযোগিতাসক্ষম রাখতে ব্যবসা শুরুর খরচ কমানো এবং বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন প্রয়োজন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা এবং মাতারবাড়ী অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মতো কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে প্রস্তুত করতে এই ধরনের উদ্যোগগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ায় তাৎক্ষণিক স্বস্তি মিললেও ২০২৯ সালের পর শুল্ক ও বাজারসুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এই তিন বছরের মধ্যে রাজস্ব, শুল্কনীতি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ না করলে ওষুধশিল্পসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতায় অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: Prothom Alo


















