যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা ও জ্বালাপোড়া তৈরি করতে সক্ষম ‘অ্যাকটিভ ডিনায়াল সিস্টেম’ (এডিএস) ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বাক্ষরিত এক স্মারকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে (ডিএইচএস) এই প্রযুক্তির সাত মাসের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সিএনএনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
সাধারণ্যে ‘হিট রে’ বা উত্তপ্ত রশ্মির অস্ত্র নামে পরিচিত এই ব্যবস্থাটি মূলত সামরিক যানের ওপর বসানো যায়। এটি প্রায় ৯৫ গিগাহার্টজ কম্পাঙ্কের অদৃশ্য তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করে, যা প্রায় এক হাজার মিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই তরঙ্গ মানুষের ত্বকের উপরিভাগের দশমিক ৩ থেকে দশমিক ৪ মিলিমিটার গভীরে গিয়ে ব্যথানাশক স্নায়ুকে সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে শরীরে তাৎক্ষণিক তীব্র তাপ ও অসহনীয় জ্বালাপোড়া তৈরি হয়, যা ব্যক্তিকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে। তবে তরঙ্গ বন্ধ হলে বা ব্যক্তি সরে গেলে এই তীব্র যন্ত্রণা কমে আসে।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, এডিএস একটি অপ্রাণঘাতী ব্যবস্থা এবং এটি স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি বা ক্যানসার সৃষ্টি করে না। তবে অস্ত্রটি তীব্র আইনি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারের নিষিদ্ধ তালিকায় এডিএস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাতিসংঘের মতে, যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এমন শক্তির অস্ত্র ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থী। এর প্রভাবে মাঝারি মাত্রার পোড়া ক্ষত বা আকস্মিক যন্ত্রণায় পদদলিত হওয়ার মতো ঝুঁকি রয়েছে।
স্মারক অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদস্যরা সরাসরি এই অস্ত্র পরিচালনা করবেন না; বরং কার্যপ্রণালি নির্ধারণ ও তা ব্যবহারের একক দায়িত্বে থাকবে ডিএইচএস। এর আগে ২০১৮ সালেও সীমান্তে এই ব্যবস্থাটি ব্যবহারের প্রস্তাব উঠেছিল, তবে তৎকালীন প্রশাসন তা নাকচ করে দেয়। নতুন এই পদক্ষেপ নিয়ে ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) জানিয়েছে, তারা নিয়মিত নতুন প্রযুক্তি যাচাই করে থাকে, বিশেষত যা জীবন রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
জাতিসংঘের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা এবং তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সৃষ্টিকারী একটি বিতর্কিত প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োগ করার পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও সীমান্ত নীতি নিয়ে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: Prothom Alo


















