যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে বড় হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। মার্কিন কর্মকর্তা ও সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে তীব্র আঘাত হানার এ পরিকল্পনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
পরিকল্পনাকারীদের একাংশের ভাবনা, টানা তিন দিন ধরে ব্যাপক পরিসরে হামলা চালিয়ে ইরানের অর্থনীতির এত বিপুল ক্ষতি করা হবে, যাতে দেশটি আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য হয়। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত ‘পিক্যাক্স’ পারমাণবিক কেন্দ্র ছাড়াও বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রটি ধ্বংস করতে ২২ হাজার পাউন্ডের ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের বিষয়ে ট্রাম্প বিবেচনা করলেও অস্ত্রবিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমির ওপর বিস্ফোরিত হওয়া এই বোমায় ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা কম। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম আবার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কিছু কর্মকর্তা তেল শোধনাগারে হামলা এড়াতে চান।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। উল্টো বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নড়বড়ে হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী মজুতেও টান পড়েছে। চলতি বছর ট্রাম্প একাধিকবার বড় হামলার প্রস্তাব আটকে দিয়েছেন এবং অক্টোবরের শুরুতে সব প্রস্তুতি নেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেন। তবে নভেম্বরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, হাজারো মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ বাহিনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এই পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে। ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেরে গেলে নতুন দায়িত্বভার নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর পক্ষে নতুন যুদ্ধ শুরু করা কঠিন হতে পারে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন হামলার আশঙ্কাকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহু জরুরি জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন। এদিকে সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।
অন্যদিকে যেকোনো হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবলেও আঘাত হানা হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনা চললেও তেহরান শুরুতেই পরমাণু বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নয়। ইয়েমেনের হুতিদের হামলার মুখে সম্প্রতি ওয়াশিংটন সৌদি আরব থেকে জরুরি দায়িত্বে না থাকা মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
নতুন করে এই সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানির দাম বেড়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সার্বিক নিরাপত্তা সংকট আরও গভীর হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সূত্র: Prothom Alo


















