যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর এই ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে নিয়মিত মেয়াদের ৩৩টি ছাড়াও দুটি বিশেষ আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, আইনসভা ও স্থানীয় পদের নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বর্তমানে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদে তাদের ব্যবধান অত্যন্ত সীমিত। ডেমোক্র্যাটরা যদি প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের কোনো একটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর, সরকারি ব্যয়, অভিবাসন ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নীতি বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হতে পারে। বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কংগ্রেসের কমিটিগুলো তখন নতুন তদন্ত ও শুনানি আয়োজনের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলালে বিচারক ও শীর্ষ প্রশাসনিক পদের মনোনয়ন অনুমোদন প্রক্রিয়াও জটিল হতে পারে।

এই নির্বাচনের প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্টের হাতে বাণিজ্যবিষয়ক কিছু নিজস্ব ক্ষমতা থাকলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালে ট্রাম্পের শুল্কনীতি, চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধ এবং ইউক্রেন সহায়তা নিয়ে নতুন করে বাজেট পর্যালোচনা ও চাপ সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়েও এই নির্বাচন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের নেসেট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, আবার বিরোধীরাও বিকল্প সরকার গঠনের মতো নিশ্চিত অবস্থানে নেই। তেল আবিবের এই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হলে ইরান পরিস্থিতি ও ইসরায়েলে সামরিক সহায়তার বিষয়গুলোতেও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা যেতে পারে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তার ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট অনুমোদন, শীর্ষ পদে নিয়োগ এবং বাণিজ্য ও বৈদেশিক সহায়তানীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা।

সূত্র: Channel i Online