যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকানদের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বলে বিভিন্ন জনমত জরিপের পূর্বাভাসে উঠে এসেছে। ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এবং ১০০ আসনের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, তা নির্ধারণে এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদেও ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ন্যূনতম ব্যবধানে—তাদের আসন ২১৮টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। বাকি তিনটি আসন শূন্য বা স্বতন্ত্রদের অধীনে। জরিপগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ২২৪ থেকে ২৪০টি পর্যন্ত আসন পেতে পারে। বিভিন্ন জরিপের মধ্যে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর জরিপে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে ১১ পয়েন্টে (৫২%-৪১%) এবং ‘ফক্স’-এর জরিপে ৯ পয়েন্টে (৫৪%-৪৫%) এগিয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানরা ৫৩-৪৭ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। তবে এবার যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে, তার মধ্যে ২২টি আসনই রিপাবলিকানদের দখলে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের ১৩টি আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের অন্তত চারটি আসন ছিনিয়ে নিতে হবে, অর্থাৎ ন্যূনতম ৫১টি আসনে পৌঁছাতে হবে। জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা প্রায় ১০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে এবং ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো পর্যাপ্ত আসন পেতে পারে।

সিনেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াইগুলোর মধ্যে রয়েছে মিশিগান, টেক্সাস, মেইন, ওহাইও, ক্যানসাস, আলাস্কা, আইওয়া, নেভাডা ও উইসকনসিন। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ড. আব্দুল এল সায়েদ রিপাবলিকান বর্তমান সিনেটর মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে থাকলেও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ডেমোক্র্যাটদের কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। আলাস্কায় রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মেরি পেলটোলা। সেখানে বর্তমান সিনেটরের সমনামের আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড়িয়ে যাওয়ায় ভোটবিভাজনের সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে বাজেট ও ঋণের সীমা (ডেট সিলিং) নিয়ে সংকট দেখা দিতে পারে এবং ফেডারেল সরকারের অচলাবস্থা (শাটডাউন) তৈরি হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। এছাড়া সিনেটে ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ অনুমোদনে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হতে পারে। তবে সিনেটে ভোটাভুটি আটকাতে ‘ফিলিবাস্টার’ নিয়ম চালু থাকায় এবং প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকায় আইন পাসের ক্ষেত্রে উভয় দলকেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতা ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসবে। ডেমোক্র্যাটরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে বাজেট বরাদ্দ, ঋণসীমা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ পদের নিয়োগ অনুমোদনে বড় ধরনের স্থবিরতা বা সরকারের শাটডাউন দেখা দিতে পারে।

সূত্র: The Daily Star