আমেরিকানদের ব্যক্তিগত বার্তা ও যোগাযোগের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে সার্চ ফিল্টারের অনিয়ম নিয়ে সাত মাস আগে আপত্তি জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিল্যান্স কোর্ট (FISC)। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লিখিত ব্যাখ্যা বা রেকর্ড ছাড়াই গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা সাধারণ নাগরিকদের যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন বলে আদালত দেখতে পেয়েছিল। তবে এই আপত্তি সত্ত্বেও আদালত নজরদারির কার্যক্রম আরও এক বছরের জন্য অনুমোদন করে।

সেই নির্দেশটি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসনের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের গোপন আদালতের রায় ১৮০ দিনের মধ্যে পর্যালোচনার পর প্রকাশের কথা থাকলেও গত ১৩ সেপ্টেম্বর সেই সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। এ নিয়ে সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য রন ওয়াইডেন এবং প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম শিফ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স জে ক্লেটন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে আগামী ৬ নভেম্বরের মধ্যে এই বিলম্বের কারণ ও দায়ীদের নাম জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন।

চিঠিতে দুই আইনপ্রণেতা উল্লেখ করেন, প্রশাসন যদি এই আইনি নির্দেশনা অনুসরণ না করে, তবে ফরেইন ইন্টেলিজেন্স সার্ভিল্যান্স অ্যাক্টের (FISA) সেকশন ৭০২-এর অন্যান্য আইনি সীমাবদ্ধতা তারা মেনে চলবে কি না—তা নিয়ে কংগ্রেস বা সাধারণ মানুষের আস্থা রাখা কঠিন। পাশাপাশি আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ (ACLU) ২৩টি নাগরিক অধিকার সংগঠন কংগ্রেসকে অনুরোধ জানিয়েছে, নজরদারি কার্যক্রম সম্পর্কিত আইনি তথ্য প্রকাশ না করা পর্যন্ত যেন এই আইনের মেয়াদ আর না বাড়ানো হয়।

সেকশন ৭০২ কর্মসূচির আইনি মেয়াদ গত জুনে শেষ হয়ে গেলেও আদালতের দেওয়া মার্চ মাসের অনুমোদন অনুযায়ী নজরদারি কার্যক্রম এখনো চলছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বছরের শেষ নাগাদ এটি পুনরায় অনুমোদনের জন্য চাপ দিচ্ছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ রায়টি ১৮০ দিনের মধ্যে ডিক্লাসিফাই বা প্রকাশযোগ্য করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স জে ক্লেটন জানিয়েছিলেন, তারা দ্রুত এটি প্রকাশের চেষ্টা করছেন এবং আইনপ্রণেতাদের কাছে পুরো রায়টি দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আদালতের এই রায়ে মূলত যেসব প্রযুক্তি বা ফিল্টার ব্যবহার করে সাধারণ আমেরিকানদের যোগাযোগ আলাদা করে তল্লাশি চালানো হয়, সেগুলোকে সাধারণ নাগরিকদের ওপর আনুষ্ঠানিক সার্চ বা তল্লাশি হিসেবে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এসব কার্যক্রম নতুন করে সাজানোর নির্দেশ থাকলেও বিচার বিভাগ এর কিছু অংশ নিয়ে আপিল করছে। কংগ্রেস সদস্যরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আইনপ্রণেতা ও জনগণের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য গোপন রেখেই এই বিতর্কিত আইনের মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

এই আইনি লড়াইয়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে মার্কিন নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার এবং গোয়েন্দা নজরদারির পরিধির সাথে। সেকশন ৭০২ আইনের অধীনে বিদেশিদের ওপর নজরদারির সুযোগ থাকলেও ফিল্টারিং টুলের মাধ্যমে সাধারণ আমেরিকানদের ব্যক্তিগত বার্তা সংগৃহীত ও পর্যালোচিত হচ্ছে, যা প্রকাশের আগেই আইনটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন আইনপ্রণেতারা।

সূত্র: Wired