স্প্যানিশ ফুটবল লিগ লা লিগায় রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচটি চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়নি। ক্লাবটির তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্য করার পর তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে এই পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে বেইজিং।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে জানা গেছে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির দুটি স্পোর্টস চ্যানেলের কোনোটিতেই রোববারের ম্যাচটি দেখানো হয়নি। এ ছাড়া চলতি ম্যাচসপ্তাহের অন্য কোনো লা লিগা ম্যাচও দেশটির সরকারি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়নি। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না মোবাইলের ডিজিটাল স্ট্রিমিং সেবা ‘মিগু’-তে আলাভেসের বিপক্ষে বার্সেলোনার ম্যাচটি দেখানো হলেও রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচটি সেখানেও দেখা যায়নি।
সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এপ্রিল মাসের একটি পুরোনো ভিডিওতে এমবাপেকে বলতে দেখা যায়, নিজের দেখা সবচেয়ে মজার ইন্টারনেট মিম ছিল তাঁর মুখ বসানো একটি ছবি, যা ছিল “একজনের... আমার ধারণা তিনি একজন চীনা স্বৈরশাসক।” এটি মূলত মাও সেতুংয়ের ছবির ওপর এমবাপের মুখ বসানো একটি মিম ছিল বলে ধারণা করা হয়।
এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সিসিটিভি পরিচালনাকারী সংস্থা চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) গত ২৬ অক্টোবর লা লিগা সম্প্রচার স্থগিতের ঘোষণা দেয়। তারা জানিয়েছিল, এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এমবাপে, রিয়াল মাদ্রিদ এবং লা লিগার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া ছিল “একেবারে অপরিহার্য পূর্বশর্ত”।
পরবর্তীতে এমবাপে তাঁর অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান। একইভাবে রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগা কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা খেলোয়াড়ের ক্ষমা প্রার্থনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। সিএমজিও এই ক্ষমা স্বীকার করেছে বলে সিসিটিভির ওয়েবসাইটে জানানো হয়, তবে সমস্যা সমাধানের জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়েছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো শনিবার বলেছেন, এই বিতর্ক পেছনে ফেলতে ক্লাবের পক্ষ থেকে যা করার ছিল তা তারা করেছে।
চীনে মাও সেতুংকে নিয়ে কৌতুক বা নেতিবাচক মন্তব্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে দেখা হয়। এই মন্তব্যের পর চীনের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ড এমবাপের সঙ্গে তাদের স্পনসরশিপ চুক্তি বাতিল করেছে। এর আগেও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্যের কারণে বিদেশি ক্রীড়া সংস্থাগুলো চীনে জটিলতার মুখে পড়েছিল। ২০১৯ সালে তৎকালীন হিউস্টন রকেটসের জেনারেল ম্যানেজার ড্যারিল মোরি হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে টুইট করার পর এনবিএর সঙ্গেও কয়েক বছর সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন রেখেছিল বেইজিং।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ইউরোপীয় ফুটবলের জন্য চীন একটি বিশাল ও লাভজনক বাজার। এমবাপের মতো শীর্ষ তারকার একটি রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে পুরো লিগের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিলের ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে চীনা বাজারের প্রভাব ও সেন্সরশিপের কড়াকড়িকে আবারও সামনে এনেছে।
সূত্র: Al Jazeera English











