পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাঁর এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবল অঙ্গনে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ফিফা সভাপতি, বিভিন্ন ক্লাব ও তাঁর সাবেক-বর্তমান সতীর্থরা রোনালদোর আন্তর্জাতিক অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

রোনালদোর বিদায়ে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) এক আবেগঘন বিবৃতিতে তাঁর নিষ্ঠা ও নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেছে। ফেডারেশন উল্লেখ করে, দলের জন্য তাঁর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গোল এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ড বহন করার বিষয়টি জার্সির প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসারই প্রতিফলন, যার প্রভাব ফুটবল মাঠ ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।

রোনালদোর বর্তমান সৌদি ক্লাব আল নাসর তাঁকে বিশ্বের একজন ‘আইকন’ উল্লেখ করে বার্তা দিয়েছে। ক্লাবটি জানিয়েছে, পর্তুগালের হয়ে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও ক্লাবের হয়ে একসঙ্গে আরও ইতিহাস গড়া বাকি রয়েছে। অন্যদিকে সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও রোনালদোকে অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে।

ইউনাইটেডের সাবেক সতীর্থ রিও ফার্ডিনান্ড দেশের হয়ে তাঁর ১৪৬ গোল এবং তিনটি বড় শিরোপা জয়ের কথা স্মরণ করে শুভেচ্ছা জানান। পর্তুগাল দলের সতীর্থ ব্রুনো ফার্নান্দেজ জানান, শৈশবের নায়কের সঙ্গে জাতীয় দলের হয়ে খেলা তাঁর জন্য এক বিশেষ সম্মানের বিষয় ছিল।

রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান ও সাবেক তারকাদের মধ্যেও এই বিদায় নিয়ে শ্রদ্ধা দেখা গেছে। সার্জিও রামোস ও লুকাস ভাসকেজ রোনালদোকে ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র তাঁকে ‘চিরকাল এক নম্বর’ উল্লেখ করেছেন। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারও তাঁর বিদায় ঘোষণায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ পর্তুগিজ ফুটবলকে বদলে দেওয়া এই অধিনায়কের দুই দশকের আবেগ ও অবিস্মরণীয় গোলের অবদান তুলে ধরেছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন, ক্রিস্টিয়ানোর মতো খুব কম খেলোয়াড়ই বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁতে পেরেছেন এবং তাঁর উত্তরাধিকার কেবল ট্রফি বা গোলের রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

পর্তুগালের হয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক পথচলা এবং বৈশ্বিক ফুটবলে রোনালদোর অনন্য রেকর্ডের কারণে তাঁর এই প্রস্থানকে ফুটবল দুনিয়ায় একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: Daily Manab Zamin