সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সাড়ে তিন ঘণ্টার এক উত্তাল নির্বাহী কাউন্সিল বৈঠকের পর সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর শীর্ষ প্রধানরা। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে সদস্যদের প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় তারা ইনফান্তিনোর সভাপতি পদে থাকার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
বৈঠকের শুরুতে বিতর্কিত বিশ্বকাপ সেল-অফ পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকে না জানানোয় ইনফান্তিনো ক্ষমা চান। তবে ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাব, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিফা শান্তি পুরস্কার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাউন্সিল সদস্যদের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।
ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) চেয়ারপারসন ডেবি হিউইট এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তোলা সুনির্দিষ্ট প্রশ্নগুলোর একটিরও জবাব মেলেনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইনফান্তিনো এসবের উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে সভাপতি হিসেবে তিনি অযোগ্য। অন্যদিকে জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএফবি) সভাপতি বার্নড নিউয়েনডর্ফ বলেন, ফিফার সামগ্রিক প্রশাসন ও সুশাসনে আমূল পরিবর্তন দরকার, যা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে সম্ভব নয়। সেখানে নীতিগতভাবে নতুন নেতৃত্বের সূচনা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইউরোপের শীর্ষ কর্তারা আত্মবিশ্বাসী যে আগামী মার্চের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে একজন বিকল্প প্রার্থী তারা দাঁড় করাতে পারবেন। তবে উয়েফা, কনকাক্যাফ এবং এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (এএফসি) প্রধানরা আগেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা জানিয়েছেন।
ইউরোপীয় দলগুলোর অসন্তোষ থাকলেও এশিয়া ও আফ্রিকার সদস্যরা ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মরিশানিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আহমেদ ইয়াহিয়া উল্লেখ করেন, ইনফান্তিনো ভুল স্বীকার করেছেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এখনো তাকেই সভাপতি হিসেবে চান। এ বৈঠকেই ফিফার আর্থিক রিজার্ভ থেকে আগামী চার বছরের চক্রে প্রতিটি জাতীয় সংস্থাকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার করে মোট ৩৫০ কোটি ডলার বিতরণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
ফিফা সভাপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ১৮ নভেম্বর। এরপর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি কাতারের দোহায় ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
ফিফা সভাপতি নির্বাচনের আগে ইউরোপ এবং এশিয়া-আফ্রিকার ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে নেতৃত্বের বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ফুটবল প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব এবং নীতিগত স্বচ্ছতা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: Daily Manab Zamin











