প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সাথে সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন সাধারণ মানুষের উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠছে। অ্যাডোবি এক্সপ্রেস প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া গিগ কর্মীদের প্রায় ৪৬ শতাংশই বাড়তি উপার্জনের (সাইড হাসল) কাজে বিভিন্ন এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। ১,০১০ জন গিগ কর্মীর ওপর পরিচালিত এই সমীক্ষার তথ্য ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা হয়।
বর্তমান সময়ে কোডিংয়ের জটিল জ্ঞান ছাড়াই এআই-এর সহায়তায় অ্যাপ তৈরি, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা কনটেন্ট প্রস্তুত করার সুযোগ বাড়ছে। তবে উদ্যোক্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারে সহজে কিছু তৈরি করা সম্ভব হলেও বাজারে টিকে থাকার জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হলো উপযুক্ত গ্রাহক চিহ্নিত করা এবং তাদের বাস্তব সমস্যার সমাধান দেওয়া। উদাহরণ হিসেবে Lovable নামের একটি প্ল্যাটফর্ম কোডিং না জানা মানুষদের অ্যাপ তৈরির সুবিধা দিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ প্রায় ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ডলার বার্ষিক রিকারিং রেভিনিউ অর্জন করেছে।
একই সাথে পণ্য বা সেবা মানুষের কাছে পৌঁছানোর কৌশল বা গ্রাহক সংগ্রহের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ রাখাও বড় একটি দিক। যেমন ক্লাউড স্টোরেজ সেবা ড্রপবক্স শুরুতে প্রতি ৯৯ ডলারের পণ্যের জন্য গ্রাহক সংগ্রহে খরচ করেছিল ২৩৩ থেকে ৩৮৮ ডলার পর্যন্ত। পরবর্তীতে রেফারেল প্রোগ্রামের মাধ্যমে তারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সাইনআপ বাড়াতে সক্ষম হয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কাজ দ্রুত করার চেয়ে কোন কাজটি মানুষের প্রয়োজনে আসবে এবং কীভাবে সঠিক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো যাবে, তা নির্ধারণ করাই এআইভিত্তিক উদ্যোগগুলোর আসল চাবিকাঠি।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এই সমীক্ষাটি নির্দেশ করছে যে ফ্রিল্যান্সিং এবং গিগ অর্থনীতির ক্ষেত্রে এআই টুলস ব্যবহারের হার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর বাড়তি আয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় মাধ্যম হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।
সূত্র: Entrepreneur










