প্রযুক্তি খাতে ডেটা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে অধিকাংশ আলোচনা এখনো মূলত তথ্যের গোপনীয়তার (privacy) মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইমেইল, ব্রাউজিং হিস্ট্রি, সার্চের ধরন, লোকেশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম থেকে নিয়মিত বিশাল পরিমাণের তথ্য সংগ্রহ করছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংগৃহীত এই বিপুল তথ্যের মূল আর্থিক মূল্য শুধু ডেটা বিক্রি বা লাইসেন্স করার মধ্যে নেই; এর আসল ক্ষমতা হলো মানুষের আচরণ বোঝা, তা আগে থেকে অনুমান করা এবং শেষ পর্যন্ত সেই আচরণকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করা। অতীতে যেসব বিশ্লেষণ করতে গবেষকদের দলের প্রয়োজন হতো, আধুনিক অ্যালগরিদম ও এআই কাঠামোর কারণে তা এখন বিশ্বজুড়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একজন ব্যবহারকারী কী কিনবেন বা কোন বিষয়বস্তু দেখবেন, তা অনেক সময় আগে থেকেই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সাজিয়ে রাখা হয়। ব্যক্তি মনে করতে পারেন তিনি নিজের পছন্দে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, কিন্তু বিকল্পগুলো আগেই নির্ধারণ করে দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আচরণকে প্রভাবিত করা হয়। বাণিজ্য, বিনোদন এবং রাজনীতির মতো নানা ক্ষেত্রে এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক অ্যালগরিদম ব্যবহারের নজির রয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ডেটা কাজে লাগিয়ে নির্দিষ্ট মত বা সিদ্ধান্তের দিকে মানুষকে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টারে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে, যার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হলো মানুষের মনোযোগ ধরে রাখা এবং আচরণকে প্রভাবিত করা। ফলে ডেটার নৈতিক ব্যবহার এবং ব্যবসায়ে বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ডেটাভিত্তিক এআই প্রযুক্তির প্রভাব এখন আর সাধারণ তথ্য সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ভূরাজনীতিতে মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি বড় হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

সূত্র: Entrepreneur