কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি দৃষ্টি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মানুষের যোগাযোগ এবং তথ্যে প্রবেশগম্যতায় নতুন সুবিধা তৈরি করছে। বিশেষ করে এআই ছবি-বর্ণনা (ইমেজ ডেসক্রিপশন) প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি দেখে তা কণ্ঠস্বরে রূপান্তর করা যাচ্ছে। একইভাবে শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কথার সঙ্গে সঙ্গে লেখায় রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হচ্ছে লাইভ ক্যাপশন প্রযুক্তি।
আমেরিকান ফাউন্ডেশন ফর দ্য ব্লাইন্ডের ২০২৬ সালের আগস্টের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ছবি-বর্ণনা প্রযুক্তি ব্যবহারকারী ৬২২ জনের মধ্যে ৭৪ শতাংশই প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। তবে প্রযুক্তিটির সুবিধার পাশাপাশি গুরুতর ঝুঁকিও রয়েছে। এআই অনেক সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল বর্ণনা তৈরি করে।
প্রতিবেদনটিতে অংশ নেওয়া ৯০ জন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, এআইয়ের ভুলের কারণে তাঁরা প্রত্যক্ষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এই ধরনের ভুলের কারণে তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ছবির সাধারণ বিবরণ দেওয়া এবং পথ নির্দেশনা এক বিষয় নয়। চলাচলের ক্ষেত্রে কেবল এআই বর্ণনার ওপর নির্ভর করা বিপজ্জনক হতে পারে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
অ্যাক্সেসিবিলিটি বা সহায়ক প্রযুক্তিতে এআই বড় পরিবর্তন আনলেও এর নির্ভুলতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও তথ্যের ক্ষেত্রে সরাসরি ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1ওষুধের নাম বা নির্দেশিকা এবং টাকার অঙ্কের মতো স্পর্শকাতর তথ্য এআই দিয়ে পড়ার পর সম্ভব হলে দ্বিতীয়বার অন্য কোনো উপায়ে মিলিয়ে নিন।
- 2রাস্তায় চলাচল বা পথ খোঁজার ক্ষেত্রে কেবল এআই ছবি-বর্ণনার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা থেকে বিরত থাকুন।
- 3পরিবার ও পরিচিতজনরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে সরাসরি সহায়তা করতে পারেন।
সূত্র: Prothom Alo










