মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী (সিইও) জেনসেন হুয়াংকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা নজরদারি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওঠা এই অভিযোগকে চীন সরকার "ভিত্তিহীন অনুমান" এবং তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করছেন অ্যালিস হুয়াং (যিনি হুয়াং লে নামেও পরিচিত) নামের এক চীনা ব্যবসায়ী বেইজিংয়ের স্বার্থে এনভিডিয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। তিনি সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডেটা সেন্টার প্রতিষ্ঠান মেগাস্পিডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চীনে উন্নত এনভিডিয়া এআই চিপ পাচারের সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে অ্যালিস হুয়াংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল এবং জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে জেনসেন হুয়াংয়ের সঙ্গে অ্যালিসের কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই।

মার্কিন গোয়েন্দারা অ্যালিস হুয়াংকে নজরদারিতে রাখার সময় এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের প্রমাণ পান, যাঁকে পরবর্তীতে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেনসেন হুয়াং হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে অ্যালিস ঠিক কী ধরনের তথ্য বেইজিংকে পাঠিয়েছিলেন, তা কতটা মূল্যবান ছিল কিংবা তিনি কবে থেকে এই কাজ শুরু করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শুক্রবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন অনুমানের ওপর তৈরি এবং এটি কেবল চীনকে কলঙ্কিত করার একটি চেষ্টা।

এনভিডিয়ার মুখপাত্র জন রিজো নিউ ইয়র্ক টাইমসের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, জেনসেনের সঙ্গে অ্যালিস হুয়াংয়ের যোগাযোগ কোনো অস্বাভাবিক বিষয় ছিল না। মেগাস্পিডের মতো গ্রাহকরা কেবল সাধারণ ব্যবসায়িক তথ্য পেয়ে থাকেন, কোনো গোপন ব্যবসায়িক বা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত স্পর্শকাতর তথ্য নয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে চিপ পাচারের অভিযোগ গত বছর তদন্ত করে খারিজ করা হয়েছিল। এছাড়া এনভিডিয়া জানিয়েছে, তারা রপ্তানি সংক্রান্ত সমস্ত আইন মেনে চলে এবং তাদের চিপ চীনে পাচার হওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

অন্যদিকে মেগাস্পিড জানিয়েছে, তাদের বর্তমান নেতৃত্ব অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার জন্য বহিরাগত আইনি উপদেষ্টা নিয়োগ করেছে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন সরকারের তদন্তে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছে।

উন্নত প্রযুক্তি ও এআই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটেই এই ঘটনাটি সামনে এল। জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে ২০২২ সাল থেকেই চীনে সবচেয়ে উন্নত এনভিডিয়া চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ দিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। যদিও সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এতে কিছুটা শিথিলতা আনা হয়েছিল। জেনসেন হুয়াং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন যে বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে চীনে তাদের পণ্য বিক্রির অনুমোদন থাকা প্রয়োজন।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

উন্নত এআই চিপ প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা তীব্র, এই ঘটনা তা স্পষ্ট করে। মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে চীন তৃতীয় দেশের মাধ্যমে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর সংগ্রহ করছে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের মধ্যে এই নজরদারির বিষয়টি সামনে এসেছে।

সূত্র: BBC News