চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো জেনারেটিভ এআই টুলের উত্থানের মুখে গুগল ট্রান্সলেটের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা বাড়লেও বাস্তবে সেবাটির চাহিদা কমেনি। ২০ বছর পূর্তির সময়ে গুগলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি মাসে ১০০ কোটিরও বেশি মানুষ গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করেন। গুগল ট্রান্সলেট, সার্চ, লেন্স এবং সার্কল টু সার্চ মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় এক ট্রিলিয়ন শব্দ অনুবাদ করা হচ্ছে।
প্রথাগত মেশিন অনুবাদের ক্ষেত্রে শব্দ ধরে ধরে আক্ষরিক অনুবাদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো পুরো প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে অনুবাদ করতে পারে। এতে লেখার ভাব বা আনুষ্ঠানিকতা বজায় রাখা সহজ হয় এবং নির্দেশনা দিয়ে লেখাটি পরিবর্তনও করা যায়। ২০২৫ সালে চীনা ভাষার পর্যটন বিষয়ক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মূল লেখার প্রতি বিশ্বস্ততা ও সংস্কৃতি বোঝার ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি প্রচলিত গুগল ট্রান্সলেট ও ডিপএল-এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ডিপএল নিজেদের পরীক্ষার সূত্রে দাবি করেছে যে ইউরোপীয় ভাষার ক্ষেত্রে তাদের অনুবাদের মান অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। তবে ইউরোপের বাইরের ভাষাগুলোর ক্ষেত্রে এই ব্যবধান অনেক কমে আসে।
চ্যাটবটগুলোর নানা সুবিধা থাকলেও ভাষার পরিধিতে গুগল এখনও শীর্ষে রয়েছে। বর্তমানে গুগল ট্রান্সলেট প্রায় ২৫০টি ভাষা সমর্থন করে, যার বিপরীতে ডিপএল-এর তালিকায় রয়েছে মাত্র ৩৩টির মতো ভাষা। ২০২৪ সালে গুগল একসঙ্গেই ১১০টি নতুন ভাষা যোগ করেছিল। পাশাপাশি ভ্রমণের সময় সাইনবোর্ড বা রেস্তোরাঁর মেনুর ছবি তুলে অনুবাদ, ইন্টারনেট ছাড়া অফলাইন অনুবাদ এবং ক্রোম ব্রাউজারে এক ক্লিকে পুরো ওয়েবপেজ অনুবাদের মতো তাৎক্ষণিক কাজে গুগল ট্রান্সলেট এখনও বেশি সুবিধাজনক।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গুগলও তাদের প্রযুক্তিতে পরিবর্তন এনেছে। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ট্রান্সলেটের টেক্সট অনুবাদে এখন তাদের নিজস্ব ‘জেমিনি’ এআই মডেল যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বাগধারা ও জটিল বাক্যের অর্থ আক্ষরিক না করে প্রসঙ্গের সঙ্গে মিলিয়ে অনুবাদ করা সম্ভব হচ্ছে। হেডফোনে বাস্তব সময়ে কথা থেকে কথায় অনুবাদের একটি পরীক্ষামূলক সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। জেমিনিচালিত এই টেক্সট অনুবাদ শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে ইংরেজি এবং স্প্যানিশ, হিন্দি, চীনা, জাপানি ও জার্মানসহ প্রায় ২০টি ভাষায় চালু হয়েছে।
সাধারণ শব্দার্থ খোঁজা, দ্রুত সাইনবোর্ড বোঝা কিংবা বিভিন্ন ভাষায় প্রাথমিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুগল ট্রান্সলেট সহজ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল বা প্রবন্ধের মতো ক্ষেত্রে এআই মডেলের মাধ্যমে পরিমার্জন করে নেওয়া বেশি কার্যকর। আইনি বা চিকিৎসার নথির মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে যেকোনো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ওপর এককভাবে নির্ভর করার চেয়ে দক্ষ অনুবাদককে দিয়ে যাচাই করে নেওয়া নিরাপদ।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা টুলের প্রসারের ফলে প্রথাগত অনুবাদ প্রযুক্তির কার্যকারিতা বদলাচ্ছে। দৈনন্দিন তাৎক্ষণিক যোগাযোগ এবং জটিল সাহিত্য বা প্রাতিষ্ঠানিক নথির অনুবাদের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা এখন কাজের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তি বেছে নিচ্ছেন।
সূত্র: Channel i Online










