কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ‘ক্লড’ (Claude)-এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র বা এস-ওয়ান (S-1) প্রসপেক্টাস জমা দিয়েছে। ন্যাসড্যাক (Nasdaq) স্টক এক্সচেঞ্জে ‘ANT’ টিকারে লেনদেন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি নভেম্বর মাসের শেষ নাগাদ এই আইপিও (IPO) বাজারে আসতে পারে। তবে প্রসপেক্টাসে প্রতিষ্ঠানটির কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য কিংবা ঠিক কত অর্থ তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, তা এখনো উল্লেখ করা হয়নি।

জমা দেওয়া নথিপত্রে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত অ্যানথ্রপিকের আর্থিক অবস্থার বিশদ চিত্র উঠে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আয় দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার আয় হলেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে তা বেড়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গত বারো মাসে প্রায় ১১ হাজার ৯০০ জন গ্রাহক অন্তত ১ লাখ ডলার করে ব্যয় করেছেন এবং প্রায় ২৫০ জন গ্রাহক ব্যয় করেছেন ১ কোটি ডলারের বেশি।

তবে আয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক লোকসানের পরিমাণও ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই প্রতিষ্ঠানটি ৮ হাজার ৭০ কোটি (৮০.৭ বিলিয়ন) ডলার নিট লোকসান গুনেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি (১৩ বিলিয়ন) ডলার। এখনো কোনো মুনাফা করতে পারেনি কোম্পানিটি।

প্রসপেক্টাসে বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরেছে অ্যানথ্রপিক। বিনিয়োগটিকে ‘উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, উন্নত এআই সিস্টেম ভবিষ্যতে মানবতার জন্য মারাত্মক বা অস্তিত্বসংকটের কারণ হতে পারে। এসব প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে সাইবার হামলা, নতুন ধরনের জৈব অস্ত্র তৈরি কিংবা স্বৈরশাসকদের নজরদারির ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি নিজেদের তৈরি এআই মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা এবং তীব্র ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকির পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাবও নথিতে যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘সাপ্লাই চেইন রিস্ক’ বা সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি উল্লেখ করেছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর কারণে মার্কিন সরকার ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে পণ্য বিক্রি বা সেবা দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা কোম্পানির সামগ্রিক ব্যবসায় প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি হওয়া সত্ত্বেও এআই অবকাঠামো তৈরিতে যে বিপুল আর্থিক লোকসান ও মূলধনী ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, অ্যানথ্রপিকের এই আর্থিক বিবরণী থেকে তা স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ঝুঁকি ও সরকারি নজরদারির মধ্যেও সিলিকন ভ্যালির বড় একটি এআই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য পুঁজিবাজারে প্রবেশের উদ্যোগ ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিনিয়োগের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: Wired