সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ‘বন্ধু’ বা ‘ফ্রেন্ড’ শব্দটির অর্থ ও ব্যবহার নিয়ে সমাজে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট বিভ্রান্তি। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে যে, ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমের একটি সংযোগকে বাস্তব জীবনের বন্ধুত্বের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার কারণে পরিবার এবং বৈবাহিক সম্পর্কে অনাকাঙ্ক্ষিত সন্দেহ ও টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে পারস্পরিক বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের স্মৃতি এবং গভীর মানসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। তবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ‘ফ্রেন্ড’ শব্দটিকে মূলত একটি প্রযুক্তিগত পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করে, যা প্ল্যাটফর্মে কোনো ব্যক্তির পোস্ট বা আপডেট দেখার অনুমোদিত যোগাযোগ নির্দেশ করে। এই যোগাযোগটি হতে পারে পুরোনো কোনো সহপাঠী, সাবেক সহকর্মী কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পরিচিত হওয়া কোনো ব্যক্তি।

বাস্তব জীবনের আবেগের মাপকাঠিতে ভার্চ্যুয়াল আচরণ বিচার করার ফলে জটিলতা বাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপরীত লিঙ্গের কারও ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করলেই অনেক ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক মানুষ বা পরিবারের সদস্যরা একে ব্যক্তিগত বা গোপনীয় সম্পর্ক ভেবে বসেন। এমন ভুল ধারণা থেকে অহেতুক সন্দেহ, ঈর্ষা এবং দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগ মূলত পরোক্ষ পর্যবেক্ষণ—যেখানে মানুষ অন্যের জীবনের নির্বাচিত অংশ দেখে এবং লাইক বা সংক্ষিপ্ত মন্তব্যের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। বিপরীতে, বাস্তব জীবনের বন্ধুত্বে সংকটকালে পাশে থাকা ও সরাসরি সময় কাটানোর মতো দায়বদ্ধতা থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো প্রোফাইল হাসপাতালে অসুস্থ বন্ধুর পাশে বসে থাকে না বা বাস্তব বিপদে সরাসরি সহায়তা দেয় না।

এই বিভ্রান্তি এড়াতে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও পরিবারের ভেতরে খোলামেলা যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। প্রযুক্তিগত শব্দের অর্থকে আবেগ বা সম্পর্কের মাপকাঠি হিসেবে না দেখা এবং সামাজিক মাধ্যমের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করাই এমন সন্দেহ দূর করার মূল উপায়।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

সামাজিক মাধ্যমের কারিগরি পরিভাষাকে বাস্তব আবেগের সম্পর্ক মনে করার ফলে পারিবারিক টানাপোড়েন ও বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষতি হতে পারে। ডিজিটাল মাধ্যমের সঠিক বোধ ও পারস্পরিক যোগাযোগ এই ভুল বোঝাবুঝি কমাতে সাহায্য করে।

সূত্র: The Financial Express Bangladesh