টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের রকেট টেস্টিং ফ্যাসিলিটিতে নতুন ইলেকট্রিক প্রোটোটাইপ রোডস্টার ২ উন্মোচন করেছে টেসলা। কোনো মানব চালক ছাড়াই আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে গাড়িটি বাতাসে লাফিয়ে পড়া, উল্টো হয়ে চলা এবং শূন্যে শরীর নিয়ন্ত্রণ করে অবতরণের মতো কসরত দেখায়। অনুষ্ঠানে গাড়িটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ২৩০ মাইল প্রতি ঘণ্টা এবং শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতিবেগ অর্জনে এক সেকেন্ডেরও কম সময় নেওয়ার দাবি তুলে ধরা হয়।
টেসলার ভেহিকল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রধান লার্স মোরাভি গাড়ির প্রযুক্তিগত দিক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, রোডস্টার ২ সম্পূর্ণ রিয়ার-হুইল-ড্রাইভ প্রযুক্তিতে তৈরি। এতে দুটি মোটরের মাধ্যমে ১ মেগাওয়াটের বেশি শক্তি (১,৩৪১ হর্সপাওয়ার) ও ১,৪০০ নিউটন-মিটারের বেশি টর্ক তৈরি হয়। গাড়িটির ওজন ধরা হয়েছে ১,৭০০ কেজির কিছুটা নিচে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ফুল চার্জে এটি ৩০০ মাইলের বেশি চলবে এবং এর বিশেষ ব্যাটারি ১০ মিনিটে ১৫ থেকে ৮০ শতাংশ চার্জ হতে সক্ষম।
গাড়িটি যাতে উল্লম্ব ঢাল কিংবা উল্টো হয়েও মাটির সঙ্গে আটকে থাকতে পারে, সেজন্য এতে চারটি ২০-কিলোওয়াট ক্ষমতার বিশেষ ফ্যান যুক্ত করা হয়েছে, যাকে টেসলা ‘সাকার সিস্টেম’ বলে অভিহিত করছে। এছাড়া শূন্যে নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুতগতির ধাক্কা তৈরি করতে যুক্ত করা হয়েছে স্পেসএক্সের সহায়তায় তৈরি কোল্ড গ্যাস থ্রাস্টার। এতে উচ্চচাপযুক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস ব্যবহার করে থ্রাস্ট তৈরি করা হয়।
রোডস্টার ২-এর পারফরম্যান্স ভ্যারিয়েন্টে শুধু সাকশন সিস্টেম থাকবে এবং এর মাধ্যমে শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতি তুলতে ১.৬ সেকেন্ড সময় লাগবে। অন্যদিকে ‘থ্রাস্ট’ ভ্যারিয়েন্টে অতিরিক্ত ৪০০ লিটারের প্রেশার ভেসেল ও বাড়তি ছয়টি থ্রাস্টার যোগ করে পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। তবে এই বাড়তি ট্যাঙ্কের কারণে থ্রাস্ট মডেলটি এক আসনের গাড়িতে পরিণত হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বর্তমানে ৬০০ লিটার নাইট্রোজেন গ্যাস রিফিল করতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে, যা ৩০ মিনিটে নামিয়ে আনার কাজ চলছে। বর্তমান প্রোটোটাইপ থেকে চূড়ান্ত উৎপাদন ২০২৮ সালের আগে শুরু হওয়ার কথা নয়। তবে ইতিমধ্যে ওয়েবসাইটটিতে পারফরম্যান্স ও থ্রাস্ট উভয় মডেলের জন্য প্রি-অর্ডার এবং রিজার্ভেশন ফি জমা নেওয়া শুরু হয়েছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত রকেট থ্রাস্টার প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক স্পোর্টস কারের এই সংমিশ্রণ ইলেকট্রিক ভেহিকল প্রযুক্তির সীমানাকে নাটকীয়ভাবে সম্প্রসারিত করেছে, যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএ-এর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং ২০২৮ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনও বড় পরীক্ষা হিসেবে রয়ে গেছে।
সূত্র: Wired










