ইউরোপে উচ্চমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক ও প্রযুক্তিকর্মীর কোনো ঘাটতি নেই। বৈশ্বিক এআই পেশাদারদের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে তুলনায় ইউরোপে মাথাপিছু প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি এআই প্রতিভা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই অঞ্চলের বহু প্রতিভাবান উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রমুখী হচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যাটি মেধার নয়, বরং বিনিয়োগ পুঁজি ও বড় গ্রাহক পাওয়ার সীমাবদ্ধতার।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগের পরিসংখ্যান এই ফারাক স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এআই উইকলি-র তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটালের বিনিয়োগ করা ৪১২.৭ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৩৫৫.৯ বিলিয়ন ডলারই পেয়েছে আমেরিকার এআই কোম্পানিগুলো, যা মোট মার্কিন তহবিলের প্রায় ৮৬ শতাংশ। এর বিপরীতে ইউরোপের পুরো এআই খাত একই সময়ে পেয়েছে প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বব্যাপী মোট এআই অর্থায়নের মাত্র ৮ শতাংশের মতো।
অর্থায়নের এই বিশাল ব্যবধান ছাড়াও ইউরোপের অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত জটিলতা উদ্যোক্তাদের দেশ ছাড়তে উৎসাহিত করে। ইউরোপে সরকারি অনুদান ও ঋণ সুবিধার বড় ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলোর আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ এবং জটিল। তুলনায় মার্কিন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ব্যবস্থা উদ্যোক্তাদের দ্রুত তহবিল ও প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
এর পাশাপাশি কর ব্যবস্থার প্রভাবও এখানে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে ফ্রান্সে ২০২৪ সালের ওইসিডি তথ্য অনুযায়ী কর ও জিডিপির অনুপাত ৪৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সেখানে বসবাসরত কোনো উদ্যোক্তার যদি ৮ লাখ ইউরোর বেশি মূল্যের শেয়ার থাকে এবং তিনি করের আবাসস্থল স্থানান্তর করতে চান, তবে অপ্রকাশিত মুনাফার (unrealized gain) ওপরও বড় ধরনের 'এক্সিট ট্যাক্স' দিতে হয়। ফলে শেয়ার বিক্রি না করেও অনেককে বড় অঙ্কের কর দায়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রগতি থেমে নেই। গত ৮ সেপ্টেম্বর ফরাসি এআই প্রতিষ্ঠান মিস্ট্রাল স্যামসাংয়ের নেতৃত্বে সিরিজ ডি পর্বে ৩ বিলিয়ন ইউরো অর্থ সংগ্রহ করেছে, যার ফলে কোম্পানিটির মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ২১ বিলিয়নেরও বেশি ইউরোতে। এটি ইউরোপীয় প্রযুক্তি ইতিহাসের বৃহত্তম তহবিল সংগ্রহ। তবে সরাসরি মার্কিন মডেলগুলোর সঙ্গে কেবল কোডিং বা বেঞ্চমার্কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার চেয়ে মিস্ট্রাল এখন সার্ভার কম্পিউট ও স্থানীয় এআই অবকাঠামো তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে। ইউরোপের প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা সফল হলেও দীর্ঘমেয়াদে তাদের স্থানীয় পর্যায়ে ধরে রাখতে হলে ইউরোপে ব্যক্তিগত পুঁজি ও দ্রুত বিনিয়োগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি মেধা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এবং সহায়ক কর ব্যবস্থার অভাবে ইউরোপ বৈশ্বিক এআই বাণিজ্যের কেন্দ্রে অবস্থান তৈরি করতে পিছিয়ে পড়ছে, যার সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে মার্কিন প্রযুক্তি অর্থনীতি।
সূত্র: Entrepreneur










