স্মার্টফোন বা ডিজিটাল ডিভাইসে কোনো লিংকে ক্লিক না করলেও কেবল অনলাইনে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নজরদারির স্পাইওয়্যার ইনস্টল হয়ে যাওয়ার প্রমাণ শনাক্ত করেছে প্রযুক্তি নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিটিজেন ল্যাব (Citizen Lab)। গবেষকরা একে ‘অ্যাডফেকশন’ (AdFection) আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, এটি ব্যবহারকারীদের কোনো অসতর্ক পদক্ষেপ বা ইন্টারঅ্যাকশন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোনে ক্ষতিকর স্পাইওয়্যার প্রবেশ করাতে সক্ষম।

সিটিজেন ল্যাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে নিবন্ধিত বিজ্ঞাপনী সংস্থা ‘ডিসকভার-টেক’ (Discover-Tech)-এর বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ক্যানডিরু (Candiru)-এর সার্ভারের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে এই সংক্রমণ চালানো হয়। গবেষকদের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার অন্তত ৪৫টি ডিভাইস এই কৌশলে লক্ষবস্তু বানানো হয়েছিল। আক্রান্ত ফোনগুলো ডিসকভার-টেকের ডোমেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর ক্যানডিরুর নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছিল বলে বিশ্লেষণে দেখা গেছে।

গবেষকদের তথ্যমতে, ডিসকভার-টেকের ‘কন্ট্রোলিয়াম’ নামের অ্যাড প্ল্যাটফর্মটি কোনো বিজ্ঞাপনে ব্যবহারকারী ক্লিক না করলেও ডিভাইসটি শনাক্ত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংক্রমিত করার সুযোগ দেয়। সিটিজেন ল্যাবের এক জ্যেষ্ঠ গবেষক বিল মারজাক জানান, এই ধরনের আক্রমণের শিকার হলে ব্যবহারকারী কোনো ত্রুটি বা অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করবেন না, এমনকি কোনো বিজ্ঞাপনও হয়তো তাদের চোখে পড়বে না।

এই অনুসন্ধানের পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল তাদের বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্ম থেকে ডিসকভার-টেকের নিবন্ধন বাতিল করেছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞাপনী শিল্প সংস্থা আইএবি ইউরোপ (IAB Europe) তাদের ভেন্ডর তালিকা থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং কমকাস্টের মালিকানাধীন অনলাইন বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্ম ‘বিজওয়াক্স’ (Beeswax) তাদের সেবা থেকে ডিসকভার-টেককে সরিয়ে দিয়েছে।

সিটিজেন ল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুনের মধ্যে ৭০ হাজারের বেশি মোবাইল অ্যাপ এবং এক লাখ ২০ হাজারের বেশি ওয়েবসাইটে ডিসকভার-টেকের সংকেতযুক্ত বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। এমনকি বিশ্বজুড়ে ন্যাটো, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় আইনসভা এবং নরওয়ে ও সুইডেনের সরকারি সংস্থাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কেও এসব বিজ্ঞাপনের উপস্থিতির রেকর্ড পেয়েছেন গবেষকরা। তবে সব বিজ্ঞাপনেই স্পাইওয়্যার ছড়ানো হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ডিসকভার-টেক এবং ক্যানডিরুর নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ইন্টিগ্রিটি পার্টনার্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

সাধারণত স্পাইওয়্যার সংক্রমণের জন্য কোনো বার্তা বা লিংকে ক্লিক করার প্রয়োজন হলেও এই হামলায় ব্যবহারকারী শুধু একটি অ্যাপ বা ওয়েবসাইট চালু করলেই ব্যাকগ্রাউন্ড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিভাইস আক্রান্ত হতে পারে। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার বিশাল প্ল্যাটফর্ম কাজে লাগিয়ে সাইবার নজরদারির এমন নজির সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1সাইবার গবেষকদের মতে, এ ধরনের ‘জিরো-ক্লিক’ বিজ্ঞাপন হামলা থেকে ডিভাইসের সুরক্ষা বাড়াতে ব্রাউজার ও অ্যাপে নির্ভরযোগ্য অ্যাড-ব্লকার (Ad Blocker) ব্যবহার বিবেচনা করা যেতে পারে।
  2. 2ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম ও ব্যবহৃত অ্যাপগুলো সবসময় সর্বশেষ সিকিউরিটি আপডেটে হালনাগাদ রাখা প্রয়োজন।

সূত্র: Wired