দৈনন্দিন হাঁটাচলা থেকে শুরু করে দ্রুত দৌড়ানোর মতো বিভিন্ন শারীরিক কাজে শরীর মূলত দুটি উৎস থেকে শক্তি সংগ্রহ করে—ফ্যাট এবং গ্লুকোজ। সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে নিখিল জাকাৎদার ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে মানবদেহ এই দুই জ্বালানি ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন ধরনের শরীরচর্চায় এদের ভারসাম্য কীভাবে কাজ করে।

শরীরে শক্তি জমা থাকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে। ফ্যাট মূলত অ্যাডিপোজ টিস্যুতে ট্রাইগ্লিসারাইড হিসেবে জমা থাকে, আর গ্লুকোজ জমা থাকে লিভার ও পেশিতে গ্লাইকোজেন হিসেবে। জাকাৎদারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফ্যাটের মজুত দীর্ঘ সময় ধরে বড় অঙ্কের শক্তি জোগাতে পারে, অন্যদিকে গ্লুকোজের মজুত তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে শারীরিক কার্যক্রমের তীব্রতা ও স্থায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে শরীর তার জ্বালানির উৎসে পরিবর্তন আনে।

হঠাৎ বাস ধরার জন্য দৌড়ানোর মতো উচ্চমাত্রার শারীরিক চাপে পেশিতে খুব দ্রুত শক্তি প্রয়োজন হয়। এমন পরিস্থিতিতে শরীর সঞ্চিত কার্বোহাইড্রেট বা গ্লুকোজের ওপর বেশি নির্ভর করে, কারণ কার্বোহাইড্রেট মেটাবলিজম দ্রুত শক্তি সরবরাহ করতে পারে। বিপরীতে ফ্যাটের মাধ্যমে শক্তি সরবরাহের গতি তুলনামূলক ধীর হওয়ায় তা তাৎক্ষণিক তীব্র দৌড়ের চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি কার্যকর হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে শরীর কেবল একটি জ্বালানি ব্যবহার করে; শরীরচর্চার তীব্রতা, স্থায়িত্ব এবং ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী দুটি জ্বালানিই সমন্বিতভাবে ব্যবহৃত হয়।

অন্যদিকে স্বস্তিদায়ক গতিতে হাঁটার ক্ষেত্রে পেশির শক্তির চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে শরীর শক্তির একটি বড় অংশ ফ্যাট থেকে গ্রহণ করতে পারে। এই ধারণাকে 'জোন ২' (Zone 2) শরীরচর্চার সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যা তুলনামূলক মাঝারি কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক কার্যক্রম। তবে শুধু হাঁটলেই যে শরীর কেবল ফ্যাট পোড়াবে এমন নয়; হাঁটার গতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং সাম্প্রতিক খাদ্যাভ্যাসও জ্বালানির এই মিশ্রণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

কেবল ফ্যাট পোড়ানোই মেটাবলিক সুস্থতার একমাত্র লক্ষণ নয় বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (CDC) প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার অ্যারোবিক কার্যক্রম এবং দুই দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়ামের সুপারিশ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের লক্ষ্য হওয়া উচিত 'মেটাবলিক ফ্লেক্সিবিলিটি' তৈরি করা, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী শরীর ফ্যাট ও গ্লুকোজ—উভয় জ্বালানিই কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

ব্যায়ামের তীব্রতা ও শরীর কীভাবে ফ্যাট বা কার্বোহাইড্রেট ভাঙিয়ে শক্তি তৈরি করে তা বুঝতে পারলে স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা কেবল 'ফ্যাট বার্নিং' লক্ষ্যের পেছনে না ছুটে সামগ্রিক মেটাবলিক সক্ষমতা তৈরিতে নজর দিতে পারেন।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক পরিশ্রম এবং দুই দিন পেশি জোরদারের কার্যক্রম বজায় রাখা যায়।

সূত্র: The Times of India