ব্যস্ত জীবনে খাওয়ার টেবিলে বসে টিভি দেখা, মোবাইল ব্যবহার করা কিংবা অফিসের কাজ নিয়ে চিন্তা করার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। এতে খাবার কতটা খাওয়া হচ্ছে বা ঠিকমতো চিবানো হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর থাকে না। ফলে পেট ফাঁপা, বদহজম ও অস্বস্তির মতো হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই হবে না, খাবার গ্রহণের সঠিক ধরনও হজম প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ হজম বজায় রাখতে দৈনন্দিন জীবনে ছয়টি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, খাবার খাওয়ার সময় অন্য কাজ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। টিভি দেখা বা ফোনে নজর রাখার কারণে অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার গ্রহণ করেন এবং তাড়াহুড়োয় ভালো করে চিবিয়ে খান না। তাই শান্ত পরিবেশে মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি গ্রাস ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া উচিত।
দ্বিতীয়ত, খাবারের তাপমাত্রার দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ফ্রিজ থেকে বের করা খুব ঠান্ডা খাবার বা অতিরিক্ত গরম খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাদ দেওয়া উচিত। খাবার ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বা হালকা গরম অবস্থায় খাওয়া হজমের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তৃতীয়ত, দৈনন্দিন খাবারে স্বাদের বৈচিত্র্য থাকা দরকার। মিষ্টি, টক, নোনতা, ঝাল ও তেতোর ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি নিয়মিত খাবারে ডাল, শাকসবজি, ফল ও স্যালাড রাখা উচিত, যা শরীরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে।
চতুর্থত, খাওয়ার ঠিক আগে বা পরে একবারে প্রচুর জল পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। খাবারের মাঝে পিপাসা পেলে অল্প অল্প করে জল খাওয়া যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত জল পান এড়িয়ে চলা ভালো।
পঞ্চমত, রাতের খাবার খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে ঘুমাতে যাওয়া অনুচিত। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত। রাতের খাবার হালকা রাখা ভালো, কারণ ভারী খাবার খেলে রাতে পেট ভার বা অম্বলের সমস্যা হতে পারে।
সবশেষে, খাবার খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া বা ভারী শরীরচর্চা করা ক্ষতিকর। খাওয়ার পর খুব দ্রুত বা ভারী ব্যায়াম না করে স্বাভাবিক গতিতে কিছুক্ষণ ধীরে হাঁটা—আনুমানিক ১০০ কদম পর্যন্ত—হজমের অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
খাওয়ার সঠিক নিয়ম না মানলে তা দীর্ঘমেয়াদে বদহজম, পেট ফাঁপা এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের মতো শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে ছোটখাটো সচেতনতা বজায় রাখলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।
আপনার কী করা উচিত?
- 1খাওয়ার সময় টিভি, মোবাইল ও অন্যান্য কাজ থেকে দূরে থাকুন এবং খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান।
- 2অতিরিক্ত গরম বা অত্যন্ত ঠান্ডা খাবার এড়িয়ে স্বাভাবিক বা ঈষদুষ্ণ খাবার গ্রহণ করুন।
- 3ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে হালকা রাতের খাবার সম্পন্ন করুন।
- 4খাওয়ার ঠিক পরপরই শুয়ে না পড়ে বা ভারী ব্যায়াম না করে কিছুক্ষণ স্বাভাবিক গতিতে ধীরে হাঁটুন।
সূত্র: Sangbad Pratidin










