গলায় থাইরয়েডের নডিউল বা গোটা দেখা দিলে অনেকের মনেই ক্যানসারের আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট তথ্যে জানা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই গোটা ক্যানসার নয় এবং সব নডিউলের জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে না। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখাই যথেষ্ট হয়। তবে নডিউল বড় হয়ে গিলতে সমস্যা, গলায় চাপ, শ্বাসকষ্ট বা বাহ্যিক অস্বস্তি তৈরি করলে এখন কাটাছেঁড়া ছাড়াই আধুনিক থার্মাল অ্যাব্লেশনের মাধ্যমে এর আকার ছোট করা সম্ভব হচ্ছে।

থার্মাল অ্যাব্লেশন পদ্ধতিতে আলট্রাসনোগ্রামের সহায়তায় নডিউলের ভেতর একটি অত্যন্ত সরু সুচ প্রবেশ করিয়ে নিয়ন্ত্রিত তাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে আক্রান্ত অংশের কোষ সংকুচিত হয় এবং শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে নডিউলের আকার কমে আসে। তাপ উৎপাদনের জন্য মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি বা মাইক্রোওয়েভ শক্তি ব্যবহার করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেজার প্রযুক্তিও প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যেসব নডিউল ক্যানসার নয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং যেগুলো রোগীর শারীরিক অস্বস্তি তৈরি করছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেই থার্মাল অ্যাব্লেশন বিবেচনা করা হয়। তবে সব ধরনের নডিউল এই পদ্ধতির জন্য উপযুক্ত নয়। ক্যানসারের ঝুঁকি যাচাইয়ের জন্য আলট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষা এবং এফএনএসি বা বায়োপসির মতো পরীক্ষা জরুরি। ক্যানসারের লক্ষণ থাকলে প্রচলিত অস্ত্রোপচারই প্রধান চিকিৎসা।

এই পদ্ধতির অন্যতম বড় সুবিধা হলো গলায় বড় কোনো কাটার দাগ থাকে না এবং রক্তপাতের ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান না করে শুধু সংশ্লিষ্ট অংশ অবশ করেই চিকিৎসা দেওয়া যায়, যার ফলে রোগী দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। পুরো থাইরয়েড কেটে না ফেলে শুধু আক্রান্ত নডিউলটি চিকিৎসার আওতায় আনার কারণে থাইরয়েডের বাকি অংশ কার্যকর থাকে, ফলে আজীবন হরমোন ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে আসে।

পদ্ধতিটি সাধারণত নিরাপদ হলেও কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক গলাব্যথা, ফোলা ভাব বা রক্ত জমাটের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বরে পরিবর্তন বা স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু চিকিৎসাকেন্দ্রে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ও মাইক্রোওয়েভ অ্যাব্লেশনের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

অস্ত্রোপচার ছাড়া থার্মাল অ্যাব্লেশনের মাধ্যমে গোটা অপসারণ সম্ভব হওয়ায় রোগীদের পুরো থাইরয়েড হারানোর ঝুঁকি কমে এবং থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখা সহজ হয়।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1গলায় গোটা বা থাইরয়েড নডিউল দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান।
  2. 2অ্যাব্লেশন চিকিৎসা নেওয়ার আগে বায়োপসি বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে নডিউলটি ক্যানসারমুক্ত কি না তা নিশ্চিত করুন।
  3. 3পদ্ধতিটি প্রয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জেনে নিন।

সূত্র: Bangla New York