‘ডাবল ডায়াবেটিস’ কোনো সম্পূর্ণ নতুন বা আলাদা রোগ নয়; বরং এটি ডায়াবেটিসের দুটি ভিন্ন অবস্থার একটি মিশ্র রূপ। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির শরীরে যখন টাইপ ২ ডায়াবেটিসের প্রধান বৈশিষ্ট্য—ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বা ইনসুলিন অসংবেদনশীলতা দেখা দেয়, তখন এই অবস্থাকে ‘ডাবল ডায়াবেটিস’ বা যুগ্ম ডায়াবেটিস বলা হয়। ভারতের পারেলের গ্লেনিগ্ল্যামস হাসপাতালের ফিজিশিয়ান ও ডায়াবেটোলজিস্ট ডা. আরতি উল্লালের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের শরীর সাধারণত পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। কিন্তু এর সঙ্গে যদি অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, কায়িক শ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কিংবা বংশগত কারণে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, তখন রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে শরীরের আগের চেয়ে অনেক বেশি ইনসুলিনের প্রয়োজন হয়। ফলে রোগীর টাইপ ১ থাকা সত্ত্বেও টাইপ ২-এর প্রভাব যুক্ত হয়ে জটিলতা বাড়ে।

এই সমস্যার সবসময় স্পষ্ট বা আলাদা কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে হঠাৎ জটিলতা দেখা দেওয়া, অস্বাভাবিকভাবে ইনসুলিনের চাহিদা বাড়তে থাকা এবং অকারণে ওজন বৃদ্ধি পাওয়া এর অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া কোমরের মাপ বেড়ে যাওয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিলে চিকিৎসকরা সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য পর্যালোচনা করেন। পরিবারে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকা এবং পেটে অতিরিক্ত মেদ জমলে এই ঝুঁকি আরও বাড়ে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের নিয়মিত রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ওজনে পরিবর্তন এলে বা ইনসুলিনের প্রয়োজনীয় ডোজ বেড়ে গেলে নিজ থেকে ডোজ পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং জটিলতা বৃদ্ধি পায়। সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য ও ইনসুলিনের ডোজ সমন্বয়ের জন্য এই অবস্থাটি সম্পর্কে সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার কী করা উচিত?

  1. 1টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকলে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, শারীরিক পরিশ্রম করা এবং সুষম খাবার গ্রহণ করার দিকে নজর রাখুন।
  2. 2রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়মিত পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করুন।
  3. 3ইনসুলিনের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে কিংবা অস্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধি পেলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন; বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ইনসুলিনের ডোজ কমানো বা বন্ধ করবেন না।

সূত্র: Bangla New York